দুই ডাকাতকে গুলি করল কে?

0

সীতাকুণ্ডে দুই ডাকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন মারা গেলেও অপর ডাকাত গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ বলছে, তারা ওই দুই ডাকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই উদ্ধার করে। প্রশ্ন উঠেছে- চিহ্নিত ওই দুই ডাকাতকে গুলি করলটা কে?

সীতাকুণ্ডে ডাকাত সর্দার সামছুদ্দিনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নুনাছড়া সাইনবোর্ডের উত্তর পাশের কলাবাড়িয়া এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দেশি তৈরি কিছু অস্ত্রও। এছাড়া মামুন নামে গুলিবিদ্ধ অপর এক ডাকাতকেও উদ্ধার করে হাসপতালে ভর্তি করা হয়।

নিহত ডাকাত সর্দার শামশুদ্দিন ওরফে কোপা সামশু (৩৬) উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারীটোলা গ্রামের সিপাহী বাড়ির আবুল খায়েরের ছেলে। গুলিবিদ্ধ অপর ডাকাতের নাম মামুন (৩৮)। তিনি একই এলাকার নতুনপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডাকাতি, ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রোববার ভোরে থানায় খবর আসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের নুনাছড়া এলাকায় ডাকাতদের মধ্যে গোলাগুলিতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছে। সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই প্রদ্যুৎ ঘোষ চৌধুরী ও সোহেল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ডাকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় একটি দেশীয় তৈরি শটগান, ৪টি কার্তুজ, ২টি কিরিচ, একটি শাবল, ৩টি ছোট দা ও ৩টি লোহার বড় রড।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলিবিদ্ধ ডাকাতদের নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামশুদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ অপর আহত মামুনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা এস এম নুরুল করিম রাসেদ বলেন, অজ্ঞাত পরিচয় গুলিবিদ্ধ দুইজনকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। এদের মধ্যে একজন মারা যায়। অপরজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের বুকের ডান পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। উভয়ের ডান পায়ে কাটার চিহ্নও আছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন বলেন, নিহত ও আহতরা সীতাকুণ্ড থানার তালিকাভুক্ত ডাকাত। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সীতাকুণ্ডের ৪২ কিলোমিটার সড়কের কোন না কোন স্থানে সুযোগ বুঝে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও কার-মাইক্রোতে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি করত তারা। কয়েকদিন আগে ডাকাত সামশুর নেতৃত্বে বাড়বকুণ্ড এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় প্রাণ হারান এক ট্রাকচালক। তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা ও আহত মামুনের বিরুদ্ধে ৮টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। নিহত সামশুদ্দিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

ডাকাতদের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ওই দুই ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কী না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জয়নিউজ/সেকান্দর/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...