পটিয়ার কচুয়াইয়ে বাচা-শাহেদ ও রুবেল আতঙ্ক! তটস্থ এলাকাবাসী

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই একটি সমৃদ্ধ গ্রাম। যেখানে একটি শিল্পনগরী, মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু রয়েছে।

- Advertisement -

শিক্ষায় উন্নত এ এলাকাটিতে মাদক কারবার, অস্ত্র ব্যবসা, খালের বালি-মাটি লুট, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

- Advertisement -google news follower

ওই এলাকায় সন্ত্রাসী বাচা ও তার দুই সহযোগী শাহেদ ও রুবেলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে মানুষ। তাদের ভয়ে গ্রামবাসী তটস্থ হয়ে পড়েছে।

তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে এলাকার মানুষের ভালমন্দ। তাদের সাথে দ্বিমত হলে লোহার হাতল, হকিস্টিক, লাঠি দিয়ে ভেঙ্গে দেয় হাত পা।

- Advertisement -islamibank

প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তায় এমন উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তারা বলছেন, সন্ত্রাসী বাচা ও তার সহযোগী শাহেদ এবং রুবেল বিভিন্ন সময় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হলেও জেল থেকে বেরিয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। তবে, পুলিশের দাবি, এলাকায় বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়েও তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না।

র‌্যাব-৭ সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৩ জুলাই র‌্যাপিড আ্যকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৭) কচুয়াই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছৈয়দ বৈদ্যর ছেলে আমানত উল্লাহ বাচাকে গ্রেফতার করেন। এসময় তার কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ১টি থ্রি কোয়ার্টার অস্ত্র ও ৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় র‌্যাবের এক কর্মকর্তা বাদি হয়ে অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,আমানত উল্লাহ বাচা জামিনে বেরিয়ে এলাকায় বিশাল একটি সন্ত্রাসী ও কিশোরগ্যাং বাহিনী গঠন করে কচুয়াই, লালারখিল, চক্রশালা, খরনা, পটিয়া বৈলতলী রোড়, বাহলী, কমলমুন্সিরহাট, অলিরহাটসহ পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেছে।

তার বাহিনীতে রয়েছে ৫ মামলার আসামি জাহিদুল হকের পুত্র শাহেদ ওরফে ছোট শাহেদ, বধু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ রুবেলসহ অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী।

তারা পাশ্ববর্তী এলাকা হাইদগাঁও, কেলিশহর থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে এলাকায় মাদকের আসর বসায়। এছাড়া কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এবং পার্বত্য এলাকা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে বিক্রি করে বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, অস্ত্রসহ বাচা র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হলেও সে পুরাতন পেশা ছাড়েনি। তারা জানান, বাচা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার সঙ্গপাঙ্গরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার সাথে কেউ টু শব্দও করতে পারেনা। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্রয়ে বাচা, শাহেদ ও রুবেল অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। এলাকায় তারা হেন অপরাধ নেই করছেন না।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিরা জানান, সন্ধ্যার পর হলেই এলাকায় মাদক ও ইয়াবা কারবারিদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। এছাড়া ছিনতাই ও দস্যুতার মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ।

পটিয়ার সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি বলেন, আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল পটিয়া থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করা। যারা সরকারি রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে অন্য দলের কর্মী হয়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান করে বেড়াচ্ছে তাদের শক্ত হাতে দমন করা হবে।

অস্ত্র মামলায় গ্রেফতারের পর এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছেন বাচা ও তার বাহিনীর লোকজন। এতে এলাকাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে। তার ক্যাডার বাহিনীর হাতে হাতে অস্ত্র থাকায় এলাকায় জুলুমের রাজত্ব চলছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি পটিয়া) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আবারও মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানকারীদের তালিকা করে ধারাবাহিক ভাবে অভিযান পরিচালনা হচ্ছে এবং গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন,ডিআইজি স্যার ও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মহোদয়ের আদেশ অনুসারে পাড়া মহল্লা গুলোতে আমাদের বিট পুলিশিং কার্যক্রম চলছে।

প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিয়নে আমি নিজে যাচ্ছি এবং ধারাবাহিক ভাবে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, ইয়াবা মদ গরু মহিষ চুরি থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধ দমনে পটিয়া থানা পুলিশ সক্রিয়।

জেএন/এনআইটি/পিআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন news@joynewsbd.com ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ

×KSRM