পুঁজিবাজারে ফিরছে নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা-লেনদেন ইতিবাচক!

অর্থনীতি ডেস্ক :

দীর্ঘদিন ধরে শেয়ার বাজারে নিষ্ক্রিয় থাকা বিনিয়োগকারীরা আবার সক্রিয় হচ্ছেন। এতে বাজার কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে লেনদেনে।

- Advertisement -

দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ চিত্র দেখা যায়। গত সপ্তাহে ডিএসইতে পাঁচ কার্যদিবসে প্রায় ৪ হাজার নিষ্ক্রিয় বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব সক্রিয় হয়েছে। অর্থাৎ, নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন।

- Advertisement -google news follower

ফলে শেয়ার-শূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা কমেছে। শেয়ার বাজারে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বিও হিসাব সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড বা সিডিবিএল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সিডিবিএলের তথ্য বলছে, গত বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে শেয়ার আছে এমন বিও হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৬ হাজার ১৬৮।

- Advertisement -islamibank

আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে, অর্থাৎ ৪ জুলাই এই সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ২ হাজার ৩৪৬। সেই হিসাবে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে শেয়ার আছে এমন বিও হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৩ হাজার ৮২২টি।

বাজারসংশ্লিষ্টরা অবশ্য শেয়ার-শূন্য বিও হিসাব কমার পেছনে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি নতুন তালিকাভুক্ত হতে যাওয়া টেকনো ড্রাগসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন।

কারণ, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির আইপিও শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে যুক্ত হয়েছে। এ কারণে শেয়ার-শূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা কমে গেছে।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদায়ি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দেশের ডিএসইতে দরপতন হয়েছে। এর পরও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনকৃত মোট কোম্পানির মধ্যে ২২০টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১৫৪টির। আর ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বেশির ভাগ কোম্পানির দাম বাড়ার পরও বাজার মূলধন কমেছে।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫২ কোটি, যা গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। বাজার মূলধন কমলেও বিদায়ি সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে।

গত সপ্তাহে স্টক এক্সচেঞ্জটির প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৯ দশমিক ২২ পয়েন্ট। তবে প্রধান মূল্যসূচক বাড়লেও কমেছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক।

গত সপ্তাহ জুড়ে এই সূচক কমেছে ৮.৯৮ পয়েন্ট। আর ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ১.১৭ পয়েন্ট।

এদিকে মূল্যসূচকে মিশ্র প্রবণতা থাকলেও লেনদেনে গতি বেড়েছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৮৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৬১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ২৭৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

বিদায়ি সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, বিচ হ্যাচারি, ওরিয়ন ফার্মা, স্যালভো কেমিক্যাল, লাভেলো আইসক্রিম, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ফারইস্ট নিটিং, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও আফতাব অটোমোবাইল।

জেএন/পিআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন news@joynewsbd.com ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ

×KSRM