আমি নারীশিক্ষার বিরুদ্ধে নই: আল্লামা শফি

0

মেয়েদের পড়াশুনা নিয়ে জমিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম মাহফিল ও দস্তারবন্দি সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

শনিবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি তাঁর বক্তব্যের একটি খণ্ডাংশ মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপাত্র মাসিক মুঈনুল ইসলাম এর নির্বাহী সম্পাদক সরওয়ার কামাল প্রেরিত ওই বিবৃতিতে আল্লামা আহমদ শফি বলেন, আমি মূলত বলতে চেয়েছি, ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয় এমন প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের পড়াশুনা করানো উচিত হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এখানে শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সকল কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীশিক্ষার বিষয়টিকে উৎসাহিত করা হয়েছে ।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, নারীর পর্দার বিষয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমি বলতে চেয়েছি, শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে যেন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা না হয়। কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সহশিক্ষা দেওয়া হয়, অর্থাৎ ছেলেমেয়ে একইসঙ্গে শিক্ষাগ্রহণ করে থাকে। এতে করে পর্দার লঙ্ঘন হয়। আমি মূলত এই সহশিক্ষা গ্রহণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমাকে নারীবিদ্বেষী ও নারী শিক্ষাবিদ্বেষী বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

হেফাজত আমির বলেন, আমি নারীশিক্ষার বিরুদ্ধে নই। তবে নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি। আমরা চাই নারীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, তবে সেটা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থেকে এবং ইসলামের মৌলিক বিধানকে লঙ্ঘন না করে। শিক্ষাগ্রহণ অবশ্যই জরুরি, তবে সেটা গ্রহণের জন্য আমরা আমাদের কন্যাদের অনিরাপদ পরিবেশে পাঠাতে পারি না।

তিনি বলেন, আমি চাই এ দেশের নারীরা শিক্ষিত হোক। কারণ মা শিক্ষিত হলে সন্তান সঠিক শিক্ষা পাবে। নারীর শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করুন। যেখানে পরিচালক থেকে শুরু করে কর্মকর্তারা সকলেই নারী থাকবেন। সে ধরনের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা থাকলে আমরা তাতে অবশ্যই উৎসাহিত করব।

জয়নিউজ/আবু তালেব/বিশু/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...