সাতক্ষীরার আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর পানির তোড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ইউনিয়নের ২০ হাজারের বেশি মানুষ। এ দুর্যোগ মোকাবিলায় গ্রামবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
আজ বুধবার (২ এপ্রিল) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, গত ৩১ মার্চ আনুমানিক সকাল ১১টায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে প্রায় ১৫০ ফুট জায়গা খোলপেটুয়া নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙনের স্থানে একটি বিকল্প রিং বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করলেও জোয়ারের পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
আইএসপিআর আরও জানায়, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরা জেলা জেলা প্রশাসক , ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত আশাশুনি আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি ভেঙে যাওয়া বাঁধ ও প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সংকট নিরসনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বর্তমানে আশাশুনি ক্যাম্প থেকে দুটি পেট্রোল টিম এলাকাটিতে অবস্থান করে স্থানীয় লোকজন এবং প্রশাসনকে বাঁধ মেরামতের কাজে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়াও, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের একটি দল বাঁধ মেরামতের জন্য সেখানে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার (৩১ মার্চ) রাতে অন্তত ১১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ইউনিয়নের ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। ভেসে গেছে চার শতাধিক মৎস্যঘের। তলিয়ে গেছে ৫০০ বিঘা বোরো ধান।
ঘরবাড়ি ছেড়ে তিন শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র। অনেকেই ঘরবাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে বাঁধ সংস্থার করা না গেলে ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
ভেঙে যাওয়া বাঁধ গত দুই দিনেও মেরামত হয়নি। তীব্র জোয়ারে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ১১ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে ছোট বড় অসংখ্য পুকুর ও অসংখ্য চিংড়ি ঘের। পানিতে তলিয়ে আছে হাজার হাজার হেক্টর ধানের ক্ষেত। ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার মাছ। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
এরই মধ্যে আজ বুধবার দুর্যোগ মোকাবিলায় গ্রামবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
জেএন/এমআর