বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারে ভুটানের প্রথম পরীক্ষামূলক পণ্য পরিবহন শুরু

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের (ট্রানজিট) প্রথম পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বা ‘ট্রায়াল রান’ শুরু করছে ভুটান।

- Advertisement -

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের বাংলাদেশ সফরের মধ্যেই গত শনিবার থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। আজ সোমবার ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৫ টনের একটি চালান নিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে এবং ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভুটানে যাচ্ছে।

- Advertisement -
google news follower

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ট্রায়াল রান সফলভাবে শেষ হলেই দক্ষিণ এশিয়ার এই স্থলবেষ্টিত দেশটি চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ৬৮৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিয়মিত পণ্য পরিবহন করতে পারবে।

এর আগে ভুটানের ট্রানজিট পণ্যের প্রথম চালানটি দুই মাস আগে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে নামানো হয়েছিল।

- Advertisement -
islamibank

বন্দর সূত্র জানায়, ভুটানের রাজধানী থিম্পু’র প্রতিষ্ঠান এবিট ট্রেডিং ওই ২০ ফুটের কনটেইনারে থাইল্যান্ড থেকে ১৫টন খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করেছে।

পণ্য চালানটি পরিবহন ও খালাস কাজের জন্য শিপিং এজেন্ট হিসেবে টিআইটু শিপিং বাংলাদেশ লিমিটেড এবং ফ্রেইট ফরোওয়ার্ডার্স হিসেবে সাদেক মাল্টি ট্রেড কাজ করছে।

তবে সরকারি সংস্থাগুলোর এ–সংক্রান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় এত দিন খালাস করা যায়নি। গত সপ্তাহে বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদনের পর রবিবার চালানটি খালাসের প্রক্রিয়া শুরু করে ভুটানের পণ্য খালাসের জন্য নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধি। সোমবার চালানটি বন্দর থেকে খালাসের পর ভুটানের উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের বাংলাদেশ সফরে এসে গত শনিবার (২২ নভেম্বর) বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ওই পণ্য চালানটি পরিবহনের (ট্রানজিট) প্রথম পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বা ‘ট্রায়াল রান’ উদ্বোধন করেন।

চালানটি আগামী দুই/তিন দিনের মধ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে এবং ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভুটানে যাওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, থাইল্যান্ড থেকে আসা ভুটানের পরীক্ষামূলক চালানটিতে ৬ হাজার ৫৩০ কেজি পণ্য রয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে শ্যাম্পু, শুকনো পাম ফল, আইস টি, চকলেট ও জুস।

চালানটির রপ্তানিকারক থাইল্যান্ডের অ্যাবিট ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড। চালানটি আমদানি করেছে ভুটানের এবিট ট্রেডিং।

বাংলাদেশের মাধ্যমে শুরু হওয়া পরীক্ষামূলক চালান পরিবহনে দেশটি সন্তুষ্ট হলে নিয়মিত পণ্য পরিবহন শুরু হতে পারে। তবে এটি নির্ভর করছে ভুটানের সিদ্ধান্তের ওপর।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ট্রানজিটের কনটেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর থেকেই সেটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় এনসিটি ইয়ার্ডে রাখা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতার জন্য কনটেইনারটি ডেলিভারিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে দুই/এক দিনের মধ্যে ডেলিভারি হতে পারে।

এর আগে ভারতের দুই চালান সফলভাবে খালাস হয়েছিল। এবার ভুটানের চালানটিও খালাস হচ্ছে। এতে বিভিন্ন শুল্ক করের মাধ্যমে বাংলাদেশ লাভবান হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন দ্য মুভমেন্ট অব ট্রাফিক-ইন-ট্রানজিট’ চুক্তি ও প্রটোকল সই হয়।

গত বছরের এপ্রিলে ভুটানে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল যে, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে দুটি ট্রায়াল রান সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি কার্যকর হবে।

ভুটানের এই ট্রায়াল ট্রানজিটের জন্য বাংলাদেশ ফি ও চার্জের একটি তালিকা নির্ধারণ করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে—প্রতি চালানে ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি ৩০ টাকা, ট্রান্সশিপমেন্ট ফি প্রতি টন ২০ টাকা, নিরাপত্তা চার্জ প্রতি টন ১০০ টাকা, এসকর্ট ফি প্রতি কন্টেইনারে কিলোমিটার প্রতি ৮৫ টাকা, প্রশাসনিক চার্জ প্রতি টন ১০০ টাকা এবং স্ক্যানিং ফি প্রতি কন্টেইনারে ২৫৪ টাকা। এছাড়া সড়ক টোল এবং করিডোর ব্যবহারের ফি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ