ইরানে সহিংস রূপ নিলো বিক্ষোভ, নিহত ৬

অনলাইন ডেস্ক

ইরানে বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটিতে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চলা এ বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার তিনটি শহরে বিক্ষোভকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

- Advertisement -
google news follower

এ সময় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ৩০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ইরান।

রোববার তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। দোকানদাররা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে ধর্মঘট শুরু করে; যা পরে দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

- Advertisement -
islamibank

ইরানের ফার্স নিউজ জানিয়েছে, এ দিন সন্ধ্যায় লোরেস্তান প্রদেশের একটি পুলিশ সদর দপ্তরে হামলার সময় তিন বিক্ষোভকারী নিহত এবং ১৭ জন আহত হন।

বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ছাড়া লোর্দেগান, কুহদাশত ও ইসফাহান প্রদেশেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘হেনগাও’ দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারীরা প্রাণ হারান। অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বলছে, কুহদাশতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় তাদের আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

লোরেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর সাইদ পোরালির উদ্ধৃতি দিয়ে চ্যানেলটি জানিয়েছে, ‘গত রাতে কুহদাশত শহরের ২১ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের একজন সদস্য জনশৃঙ্খলা রক্ষার সময় দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত হয়েছেন।’

বাসিজ ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যুক্ত।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো ২০২২ সালের বড় আন্দোলনের মতো তীব্র নয়। ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর। তিনি নারীদের পোশাকবিধি ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে হেফাজতে মারা যান।

তাঁর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে নিহত হন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ প্রথমে শান্তিপূর্ণ ছিল। পরে অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দিলে আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের কিছু দাবি ন্যায্য বলে স্বীকার করেছেন। তিনি দেশের খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে একই সঙ্গে সরকার কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছে। কিছু গণমাধ্যম বিক্ষোভের পেছনে অর্থনৈতিক সংকটকে দায়ী করছে। আবার কিছু গণমাধ্যম উসকানিদাতাদের কর্মকাণ্ডের কথা বলছে। সূত্র: রয়টার্স, ফার্স

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ