ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে চিকিৎসকের আত্মহত্যা, কেন?

0

`আমি বারবার বলছি আমাকে ভাল না লাগলে ছেড়ে দাও। কিন্তু চিট করনা মিথ্যা বলনা। আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমাদের দেশেতো ভালবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম আর আমি চির শান্তির পথ বেছে নিলাম।’

এভাবেই নিজের ফেসবুক একাউন্টে মর্মস্পর্শী স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন চট্টগ্রামের তরুণ চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশ (৩২)। স্ত্রীর একের পর এক পরকীয়ার কারণে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত আকাশ ছুটি নিলেন সবকিছু থেকে। অকালেই যেন মৃত্যু ঘটল একটি স্বপ্নের।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসায় শরীরে ইনসুলিন ইনজেকশন নিয়ে আকাশ আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। আত্মহত্যার পূর্বে ভোর ৪টা ৫২ মিনিটে স্ত্রীর সাথে একটি ছবি শেয়ার করে ‘ভালো থেকো আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকাদের নিয়ে’ এই এক লাইনের সর্বশেষ স্ট্যাটাস দেন। এর আগে ৪টা ২৬ মিনিটে স্ত্রীর সাথে তার এক প্রেমিকের আরো কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ও ওয়াটসআপের অশ্লীল  চ্যাটের স্ক্রিনশট  শেয়ার করেন এবং স্ত্রীর অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আত্মহত্যার ঘোষণা দেন আকাশ।

আকাশ চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের (১৩ নম্বর ওয়ার্ড) চিকিৎসক ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের জনপ্রিয় কোচিং ‘থ্রি ডক্টরস’ এর অন্যতম উদ্যোক্তা।

ফেসবুকে দেওয়া আকাশের সর্বশেষ স্ট্যাটাস সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ উপজেলার বরকল বাংলাবাজার এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে ডা. আকাশের সঙ্গে তানজিলা চৌধুরী মিতুর পরিচয় ২০০৯ সাল থেকে। দীর্ঘ ৭  বছর প্রেমের পর  ২০১৬ সালে বিয়ে হয় তাদের। তানজিলা চৌধুরী মিতু কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ২০০৯-১০ সেশনের ছাত্রী। পরে ইন্টার্নশিপ করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) থেকে। কিন্তু বিয়ের আগে থেকেই মিতুর বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ছিল। ব্যাপারটি তখন জানতেন না আকাশ। যখন জানতে পারেন তখন তাদের বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। নিজের মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে আকাশ বিয়ে করেন মিতুকে। কিন্তু বিয়ের পরও মিতু বিভিন্ন ছেলের সাথে সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। শাশুড়িকেও এ বিষয়ে অনেকবার জানিয়েছিলেন আকাশ। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কিছুদিন আগে মিতুর সাথে তার এক বন্ধুর জনপ্রিয় আরেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়াটসআপের কিছু অশ্লীল কথোপকথনের স্ক্রিনশট হাতে পান আকাশ। এতেই ভেঙ্গে পড়েন আকাশ। সিদ্ধান্ত নেন আত্মহত্যার।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জয়নিউজকে জানান, সকাল ৬টা ২০ মিনিটে আকাশকে তার ভাই নেওয়াজ মোরশেদ চান্দগাঁও আবাসিকের বি-ব্লকের ২ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাসা থেকে গুরুতর অবস্থায় চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইনসুলিন ইনজেকশনের সাহায্যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

মৃত্যুর আগে স্ত্রীকে জড়িয়ে আকাশের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- “আমার সাথে তানজিলা হক চৌধূরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয় প্রচন্ড ভালবাসি ওকে । ও নিজেও আমাকে অনেক ভালবাসে আমরা ঘুরে বেড়ায়, প্রেম করে বেড়ায় আমাদের ভালবাসা কম বেশি সবাই জানে। অনেকে বউ পাগলাও ডাকত।২০১৬ তে আমাদের বিয়ে হয় বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারি কিছুদিন আগে শোভন নামে চুয়েটের ০৮ ব্যচের এক ছেলের সাথে ও হোটেলে রাত কাটায় আর কত কি লজ্জা লাগছে সব লিখতে।ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া শেষ আমাকে যেহেতু চট্রগ্রামের সবাই চিনে তাই বিয়ে কেনসেল করতে পারিনি লজ্জাতে। ওর মোবাইল এ দেখি ভাইবারে দেখতে পাই মাহবুব নামে কুমিল্লা মেডিকেলের ব্যাচম্যটের সাথে হোটেলে সেক্সের ছবি শতশত ছবি। আমিতো বেচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম। তারপর ক্ষমা চাইল শবে কদরের রাতে কান্না করে পা ধরে আর কখনো এমন হবেনা। আমিও ক্ষমা করে দিয়ে ১বছর ভালভাবেই সংসার করলাম। তারপর ও দেশের বাইরে আমেরিকা গেল মাঝখানে একবার ঈদ পালন করতে আসল, সেপ্টেম্বরে ২০১৮ আবার চলে গেল ইউএসএমএলই এর প্রিপারেশন নিচ্ছিল সাথে ফেব্রুয়ারীতে ২০১৯ এ আমার ইউএস এ যাওয়ার কথা। জানুয়ারী ২০১৯ জানতে পারি ও রিগুলার ক্লাবে যাচ্ছে মদ খাচ্চে প্যটেল নামে এক ছেলের সাথে রাত কাটাচ্ছে । আমি বারবার বলছি আমাকে ভাল না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট করনা মিথ্যা বলনা। আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি ।আমাদের দেশেতো ভালবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম আর আমি চির শান্তির পথ বেচে নিলাম।তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভাল নালাগলে সুন্দর ভাবে আলাদা হয়ে যাও চিট করনা মিথ্যা বলনা।আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবেনা এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালবেসেছিলাম।ভিতর বাহির যদি এক হত।সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যখ্যা করলাম।

আমার শাশুড়ী এর জন্য দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে।একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে এখনো সমাধান হত। ও মা তুমি মাফ করে দিও তোমার স্বপ্ন পূরন করতে পারলামনা।মায়ের ভালবাসার কখনো তুলনা চলেনা। বারবার বলছি ভাল না লাগলে আলাদা হয় যাও চিট করনা ,মিথ্যা বলনা বিশ্বাস ভাঙ্গিওনা। হাজার হাজার ছবি আছে আরো খারাপ খারাপ দিলামনা যারা বিলিভ করবে এতেই করবে , না করলে নাই।এই ৯ বছরে বয়ফ্রেনড স্বামী স্ত্রীর মত আবার সাথে সবি করে গেল।

ও আমাকে আর কি ভালবাসল ? কিসের বিয়ে করল? আমি শেষ পর্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে অকে নিয়ে থাকতে।আমার শশুড় আর শাশুড়ী কে বারবার বলছি উনারা সমাধান করতে পারত! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ৯ টা বছর যাকে ১০০% ভালবাসছি, ওকে প্ররোচনা দিছে মইন মিথি নামে দুই ফ্রেন্ড ওর মা বাবা আমাকে মানসিক কষ্ট দিয়ে মারছে।আমাই এই বেইমানি মেনে নিতে পারিনাই।তারপর ও ভুলে আমি সুন্দর সংসার করতে চাইছি আমার শাশুড়ি শশুড় আর বউ নামের কলংক করতে দিলনা আমাকে প্রতি নিয়ত প্রেশার দিয়ে গেছে আমার বউ আমার মার নামে যা তা যা তা বলে গেছে। ।আমাকে ভাল না লাগ্লে ছেড়ে চলে যাইতে বলছি ১০০ বার।আমি বোকা ছিলাম তুমি সুখে থেক।অনেকেকে ওর ফ্যান বিলিভ করবেনা আমিঞ্জানি তবে এটাই সঠিক মরার আগে কেউ মিথ্যা বলেনা আর বাইরে থেকে মানুশের ভিতরের চেহারা বুঝা যায় না। ও সুন্দরী, পড়াই ভাল, গান পাড়ে সত্য কিন্তু ও ভাল অভিনেত্রী ভাল চিটার।যাদের ঈচ্ছা বিলিভ কবে যাদের ঈচ্ছা নাই করবেনা। তবে কাউকে ভালবেসে চিটার গিরি করনা।’

আকাশের লাশ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ডা. আকাশের মৃত্যুতে তার পরিবার ও বন্ধুমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্ত্রী তানজিলা হক মিতু বর্তমানে কোথায় আছেন এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার ফেসবুক একাউন্টটিও ডিএকটিভেট পাওয়া গেছে।

জয়নিউজ/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...