খাল খনন কর্মসূচি কৃষি ও মৎস্যে বিপ্লব ঘটাবে: ডিসি জাহিদুল ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক

সামান্য বৃষ্টিতেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। খাল দখল ও বর্জ্য ফেলে ভরাট হয়ে যাওয়াই এর অন্যতম প্রধান কারণ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে খাল পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন কার্যক্রম জরুরি। একই সঙ্গে খাল পরিষ্কার রাখতে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

- Advertisement -

আজ শনিবার একটা অনুষ্ঠান শেষে (১৪ মার্চ)স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেলা প্রশাসক জানান, নতুন সরকারের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৬ মার্চ সারা দেশের ৫৪ জেলায় ৬৩ টি খালে একযোগে খনন কার্যক্রম শুরু হবে। ওই দিন দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার শাহপাড়া খালে খনন কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

- Advertisement -
google news follower

এই কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বামনসুন্দর খালেও খনন কার্যক্রম শুরু হবে। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের আশপাশে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, পানির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব জমিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী চাষাবাদ করা সম্ভব হয়নি। খাল খনন সম্পন্ন হলে অন্তত পাঁচ হাজার হেক্টর নতুন জমি চাষের আওতায় আসবে এবং কৃষি উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

- Advertisement -
islamibank

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বামনসুন্দর খালের তিন কিলোমিটার অংশে খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে। আগামী ১৬ মার্চের কর্মসূচিতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) পালন করবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ এবং কৃষির জন্য পানির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে খরার সময় খালের পানি সেচে ব্যবহার করা গেলে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, খাল খননের ফলে প্রায় তিন মিটার গভীরতা তৈরি হবে। এতে একদিকে সেচ সুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলাও সম্ভব হবে। ফলে কৃষি ও মৎস্য—উভয় খাতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এ সময় তিনি বলেন, খাল পরিষ্কার ও পুনঃখননের উদ্যোগ টেকসই করতে হলে খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং খাল দখলমুক্ত রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

জেএন/এমআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ