চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে এখন বড় ধরনের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক সাবেক মেয়রের ব্যক্তিগত নথি, তাঁর আমলে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের বিস্তারিত তথ্য এবং বর্জ্য সংগ্রহের চুক্তিপত্রসহ সব ধরনের নথি চেয়েছে।
এসব নথি সাত কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে চসিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদকের তদন্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া।
অভিযোগ অনুযায়ী, রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়াদের শেষ দুই বছরে অন্তত ১৮৮ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এসব নিয়োগের মধ্যে শ্রমিক, কর আদায়কারী, অফিস সহায়ক, সড়ক পরিদর্শকসহ নানা পদ রয়েছে।
এখন দুদক জানতে চায় কীভাবে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, বিজ্ঞপ্তি হয়েছিল কি না, আবেদন ও পরীক্ষা হয়েছিল কি না এবং নিয়োগপত্র কীভাবে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ ওঠে যে অন্তত ৬৪ জনকে শ্রমিক পদ থেকে সরাসরি উচ্চ গ্রেডের পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে সুপারিশ ও পরিচিতির ভিত্তিতে নিয়োগ হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও এখন তদন্ত চলছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে নেওয়া ২৫টি প্রকল্পের দরপত্র, ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের চুক্তিমূল্য এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পে কাজ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ, প্রভাব খাটানো এবং অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি একটি বড় প্রকল্পে কাজের ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এক প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও অভিযোগ উঠেছে যে নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চারটি ওয়ার্ডে ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়, যেগুলো সাবেক মেয়র ও স্থানীয় এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন প্রক্রিয়া, কমিটির সদস্যদের তালিকা এবং চুক্তির কাগজপত্রও দুদক চেয়েছে।
চসিকের বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, দুদকের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রেজাউল করিম চৌধুরী ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়রের দায়িত্ব নেন এবং ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর তাঁকে অপসারণ করা হয়।
এখন তাঁর পুরো মেয়াদকালের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম দুদকের তদন্তের আওতায় এসেছে, যা চসিকের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।




