আট বছরের অপেক্ষার অবসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানের দেবীর অধিষ্ঠান

রাজীব সেন প্রিন্স

জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই মুক্তি। এখন থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান মন্দিরে প্রতিদিন পূজিত হবেন জ্ঞানের দেবী সরস্বতী।

- Advertisement -

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় গড়ে ওঠা সরস্বতী জ্ঞান মন্দিরের উদ্বোধন হয়েছে আজ।

- Advertisement -
google news follower

এ মন্দির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পূরণ হয়েছে চবি’র সনাতনী সদস্যদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন-ক্যাম্পাসে একটি স্থায়ী উপাসনালয়।

প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমিতে গঠে ওঠা এই মন্দিরটি উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

- Advertisement -
islamibank

জানা গেছে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ (কেন্দ্রীয় মন্দির)টি আট বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলে আসছিল।

গত সোমবার উৎসবমুখর পরিবেশে নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর এই মন্দির উৎসর্গ এবং শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হয়। আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নবনির্মিত এই মন্দিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

মন্দির উদ্বোধনের সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

মন্দির উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ও চবি কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায়।

এছাড়া অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান অনিতা চৌধুরীও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত সনাতন ধর্ম পরিষদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে তৎকালীন প্রশাসন মন্দির নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমির ওপর পূর্ণাঙ্গ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কাজ শুরু হয়।

মনোরম স্থাপত্যশৈলিতে নির্মিত এই মন্দিরের মূল স্থাপনা নির্মাণে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করেছেন অদুল-অনিতা ফাউন্ডেশন। ট্রাস্টি শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী ও শীমতী অনিতা চৌধুরীর ব্যক্তিগত অনুদানে এটি বাস্তবায়িত হয়।

এটির নকশা ও প্রকৌশল সহায়তা দেয় ‘এস্ট্রো’ এবং ইন্টেরিয়র সজ্জায় যুক্ত ছিল ‘দি-অ্যাড কমিউনিকেশন’। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনা কমিটি।

বক্তারা বলেন, প্রজ্ঞাবান মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য পেশাগত জ্ঞানের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। মন্দিরের কার্যক্রম শুধু পূজা ও উপাসনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে আধ্যাত্মিক চর্চা এবং মানব কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এক্ষত্রে দানবীর অদুল কান্তি চৌধুরীর মতো অন্যান্য দাতাদের অনুদানে পূরণ হবে আমাদের ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, একটি দৃষ্টিনন্দন মন্দির স্থাপনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ধর্মীয় সম্প্রীতির নতুন নজির স্থাপন করেছে।

এই উদ্যোগ সফল করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন দানবীর অদুল চৌধুরী। তাঁর আর্থিক অনুদান এবং আরও অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় মন্দিরটি আজ পূর্ণতা পেয়েছে।

সরস্বতী জ্ঞান মন্দির নির্মাণে এগিয়ে আসা প্রসঙ্গে অদুল কান্তি চৌধুরী বলেন, এমন শুভ কাজে অংশগ্রহণ করতে পারা সৌভাগ্যের।

সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরের অভাবে ধর্মচর্চায় অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে, এটা জেনে মন্দির নির্মাণে এগিয়ে এসেছি।

এদিকে এখানে একটি বৈদিক গ্রন্থাগার, আধ্যাত্মিক জ্ঞান চর্চায় নিয়মিত সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম আয়োজনে অডিটোরিয়াম, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক উৎকর্ষ সাধনে ধ্যানকেন্দ্র, সনাতনী শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যা দূর করার জন্য একটি আবাসিক হল নির্মাণের পরিকল্পনা আছে বলে জানালেন চবি কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী।

তিনি বলেন, দুর্যোগকালীন সাহায্য এবং দরিদ্রদের সহায়তায় জন্য কল্যাণ তহবিল গঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে সেবামূলক কর্মকাণ্ড।

নির্মাণকাজ তদারকি করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মন্দির নির্মাণ কমিটি ও মন্দির পরিচালনা কমিটি। সমন্বয় করেছে চবি সনাতন ধর্ম পরিষদ।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ