এখনো প্রবেশের অপেক্ষায় ‘উৎস ট্রেডিং’

রেলের ২০ কোটি টাকার জমি বেদখলে-সাইনবোর্ড ভেঙে দখলদারদের দৌরাত্ম্য!

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রাম নগরের এসআরবি স্টেশনে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রায় ২০ কোটি টাকার জমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে রয়েছে।

- Advertisement -

লিজ দেওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানকে এখনো জমি বুঝিয়ে দিতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বরং অবৈধ দখলদারদের উপস্থিতিতে জমিতে কার্যত রেলের নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

- Advertisement -
google news follower

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ‘উৎস ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর জমিটি লিজ দেওয়া হয়।

তবে এর আগ থেকেই টিটু চৌধুরী, সেকান্দর, আরিফ ও মালেকসহ কয়েকজন ব্যক্তি জমিটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন।

- Advertisement -
islamibank

সরেজমিনে দেখা যায়, বালি দিয়ে ভরাট করা জমির ওপর লোহা, তার, তেলের ড্রামসহ জাহাজের বিভিন্ন মালামাল রাখা হয়েছে।

সেখানে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এ সময় জিয়া নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান জমিতে সাইনবোর্ড টাঙাতে গেলে কিছুক্ষণ পরই তা ভেঙে ফেলে দখলদাররা।

লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ‘উৎস ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর স্বত্বাধিকারী এস এম মোসাব্বির বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে জমি লিজ নিয়েছি ছয় মাস আগে।

কিন্তু রেলওয়ে এখনো আমাদের জমি বুঝিয়ে দিতে পারেনি। তারা ধৈর্য ধরতে বলেছে। আমরা ফেব্রুয়ারিতে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছিলাম, কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা তা ভেঙে ফেলে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একাধিকবার রেলওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবিতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি টিটু চৌধুরী ও সেকান্দর মিয়াকে চিঠি দেয় রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। তবে এরপর ছয় মাস কেটে গেলেও কোনো উচ্ছেদ অভিযান হয়নি। তথ্যসূত্র-সিপি

এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি সেকান্দর মিয়া রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে তিনি রেলের জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘন, অসম্পূর্ণ নকশা এবং বরাদ্দ কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অভিযোগের বিষয়ে টিটু চৌধুরী বলেন, “আমি বিএনপির রাজনীতি করি। জমিটিতে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শুনেছি ঢাকার কোনো প্রতিষ্ঠান এটি লিজ নিয়েছে।”

তবে সেকান্দর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জনসংযোগ ও প্রচার দপ্তর এক প্রতিবাদলিপিতে দাবি করেছে, নিয়ম মেনেই জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

লিজগ্রহীতা ও দখলদারদের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমি আসার আগে জমিটি লিজ দেওয়া হয়েছে। আমার জানা মতে, নিয়ম মেনেই লিজ দেওয়া হয়েছে।

যারা দখলে আছেন, তারা বৈধ হলে কাগজপত্র দেখাতে পারবেন। রেলওয়ে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালায়। শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ