চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার নয়াহাট এলাকায় বুধবার রাতে পুলিশের একটি অভিযানে দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা এনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযানে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তিও সেই সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (৩ জুন) রাত ৯টার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের নয়াহাট জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে আলমগীর ফরিদ (২৬) এবং কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল গ্রামের মৃত জহিরের ছেলে সাহাবুদ্দিন (৪০)।
শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, মাদক কেনাবেচার তথ্য পাওয়ার পর নয়াহাট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে তল্লাশি করে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আলমগীর ফরিদের প্যান্টের পকেট থেকে ১ হাজার ৪০০ পিস এবং সাহাবুদ্দিনের লুঙ্গির খোঁচা থেকে ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা ইয়াবার মোট পরিমাণ দুই হাজার পিস।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতেন।
তবে তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এই চালান কোথায় পৌঁছানোর কথা ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদকবিরোধী অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা এলাকা থেকে ইয়াবা বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এসব নেটওয়ার্ক ভাঙতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, গ্রেফতার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের দাবি, মাদক সরবরাহ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা চক্রের সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




