সিডিএ চেয়ারম্যানের হুঁশিয়ারিতে সড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ভবনের সামনের ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে ছিল অবৈধ দখলদারদের কবজায়।

- Advertisement -

শতাধিক দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনায় ঘেরা এই এলাকা প্রতিদিনই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল সাধারণ মানুষ, পথচারী এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য। কিন্তু বুধবার সকালে সেই দৃশ্য বদলে যেতে শুরু করে।

- Advertisement -
google news follower

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিডিএ ভবনকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে শুধু ভবনের সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছিল না, দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল।

ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের অনেক সময় সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হতো, যা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্ভোগপূর্ণ।

- Advertisement -
islamibank

বুধবার সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সরাসরি মাঠে নেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন।

তিনি প্রথমে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণাধীন র‍্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর সিডিএ ভবনের সামনের ফুটপাত ঘুরে দেখেন।

সরেজমিনে গিয়ে দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলের চিত্র দেখে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে তাঁর উপস্থিতি ও তদারকিতে শুরু হয় উচ্ছেদ কার্যক্রম।

একে একে সরিয়ে ফেলা হয় ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা।

অভিযান চলাকালে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন,

“কোনো অবস্থাতেই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবনের আশেপাশে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। এই দখলের সাথে যদি কোনো চক্র জড়িত থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

তাঁর এই বক্তব্য শুধু উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণা নয়, বরং নগরজুড়ে অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিন ধরে সিডিএ ভবনের সামনে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারণে প্রতিদিন শত শত মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হতো।

সেবাগ্রহীতাদের অনেকেই অভিযোগ করতেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় ভবনে প্রবেশ ও বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে আশপাশে যানজটও নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

পরিদর্শন ও উচ্ছেদ অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন,

“একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের সামনে কিংবা যেকোনো সরকারি অফিসকে ঘিরে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল হলে দাপ্তরিক সেবা বিঘ্নিত হয়। পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলে যেমন কষ্ট হয়, তেমনি সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। জনস্বার্থে এবং নগরীর শৃঙ্খলা ফেরাতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

সিডিএ চেয়ারম্যানের এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আশপাশের জায়গা দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগ শুধু নগরীর সৌন্দর্যই ফিরিয়ে আনবে না, বরং জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ও নাগরিক সেবাও নিশ্চিত করবে।

চট্টগ্রামের নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে বার্তা বুধবারের এই অভিযানের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে— এমন প্রত্যাশাই এখন নগরবাসীর।

কারণ একটি দখলমুক্ত ফুটপাত শুধু পথচারীর স্বস্তির প্রতীক নয়, এটি একটি সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য নগরীরও প্রতিচ্ছবি।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ