ফটিকছড়িতে হরতাল, সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদরদপ্তরের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি।

- Advertisement -

নবঘোষিত উপজেলার সদরদপ্তর ভূজপুর থানা কার্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবিতে উপজেলার ছয় ইউনিয়নে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

- Advertisement -
google news follower

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকা এ কর্মসূচি বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়। হরতালের সমর্থনে আন্দোলনকারীরা ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছ ফেলে বিক্ষোভ করেন।

এতে সকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

- Advertisement -
islamibank

হরতালের প্রভাব পড়ে উপজেলার নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার ইউনিয়নে।

ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ফেলাগাজী দিঘি-হেয়াঁকো সড়কে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

অধিকাংশ দোকানপাট ও বিপণিকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিল।

সকালে উপজেলার বালুটিলা, চিকনছড়া, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীদের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে ভূজপুর থানা–পুলিশের একাধিক দল মোতায়েন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়।

ওই সভায় সদরদপ্তরের স্থান হিসেবে ভূজপুর থানা কার্যালয়-সংলগ্ন এলাকা নির্ধারণ করা হয়।

তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন উপজেলার সদরদপ্তর ভূজপুরে নয়, বরং দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপন করতে হবে।

তাদের মতে, প্রস্তাবিত স্থানটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য অধিকতর সুবিধাজনক এবং ভৌগোলিক বাস্তবতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, উত্তরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের প্রশাসনিক সেবা সহজলভ্য করতে হলে সদরদপ্তর এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে, যেখান থেকে সব ইউনিয়নের মানুষ সমানভাবে সেবা নিতে পারবেন। বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট নয়।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, “উত্তর উপজেলার সদরদপ্তর ন্যায্যতার ভিত্তিতে উত্তরাঞ্চলেই স্থাপন করতে হবে। এ দাবিতে হরতাল পালন করা হচ্ছে। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দে জানান, হরতালকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে।

নবঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদরদপ্তরের অবস্থান নিয়ে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন স্থানীয় জনমতের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের পরবর্তী কর্মসূচি এবং প্রশাসনের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে এ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ