চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী জগতের অন্যতম ‘খলনায়ক’ ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ধরতে চলা একাধিক অভিযানের পর অবশেষে বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম।
তিনি জানান, ডেভিড ইমন ও তাঁর অন্যতম সহযোগী রায়হানসহ দুর্ধর্ষ একটি সন্ত্রাসী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের একাধিক টিম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল।
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবেই যশোরে অভিযান চালিয়ে ইমনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম আরও জানান, একই সময়ে নোয়াখালীতে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে অল্পের জন্য পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় সন্ত্রাসী রায়হান। তবে তাকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারকে ঘিরে এখন চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেপথ্যের নানা তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, ইমনের গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম অঞ্চলে সক্রিয় একাধিক সিন্ডিকেট ও সন্ত্রাসী চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে ইমনের গ্রেপ্তার হঠাৎ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে গত রবিবার (২৬ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে চার রাউন্ড গুলি ও একটি বিদেশি পিস্তলসহ তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. আসিফকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর সময় তাঁর কোমর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
একই অভিযানে সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফের কাছ থেকেও আরও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ ও আরিফ দুজনেই শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের হয়ে অস্ত্র প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার কথা স্বীকার করেছে।
দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীর গ্রেপ্তারের কয়েক দিনের মধ্যেই এবার পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন ডেভিড ইমন নিজেই।
ফলে তাঁর গ্রেপ্তারকে চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে, ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পুরো অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
পুলিশের এই অভিযানের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে কি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আরও কোনো চক্র বা সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচিত হবে?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনের দিকে এখন নজর থাকবে সবার।




