প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রামে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রশাসন ও পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম নগর ও জেলার পুকুর-জলাশয় পরিচ্ছন্ন করার অভিযানে একযোগে মাঠে নেমেছেন বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিষ্কার করা পুকুরগুলোতে দেশি মাছের পোনা ছাড়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ প্রতিপাদ্যে আজ শনিবার দুপুরে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার কাজীবাড়ি পুকুরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। এতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

- Advertisement -
google news follower

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে সরকারি দপ্তর ও দপ্তরের ছাদ পরিষ্কার করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, এটি চমৎকার ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিভাগের সব জেলায় কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করবে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতাও দেওয়া হবে।

- Advertisement -
islamibank

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, মহানগরের সব সংস্থা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যুক্ত হয়েছে। নিজেদের কার্যালয় পরিচ্ছন্ন করার মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি এক দিনের কর্মসূচি নয়; ধারাবাহিকভাবে চলবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘পুকুর পরিষ্কার রাখা কোনো নির্দিষ্ট বিভাগ বা ব্যক্তির একার দায়িত্ব নয়; এটি সবার কাজ। আগামী প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

জেলা প্রশাসক জানান, সরকারি-বেসরকারি পুকুরগুলো পরিদর্শন করতে গিয়ে তাঁরা দেখেছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে পুকুর পরিষ্কার করেছে। যেসব পুকুরে কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য জমে আছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করা হবে।

পরিষ্কার করা পুকুরে দেশি মাছের পোনা ছাড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পুকুর পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশি মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ ও জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের পুকুরের বড় একটি অংশ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ভরাট হয়ে গেছে। অবশিষ্ট পুকুরগুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি ভরাট হয়ে যাওয়া জলাশয় উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সব পুকুর একসঙ্গে পরিষ্কার করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের সক্ষমতা ও নাগরিকদের সহযোগিতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পরিষ্কারের কিছুদিন পর পুকুরগুলো যাতে আবার আগের অবস্থায় ফিরে না যায়, সে জন্য জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জলাশয় ভরাট করে ছোট ছোট টার্ফ বা অন্য স্থাপনা নির্মাণের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণ করতে হবে। পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বশীলতার একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।

জেলা প্রশাসক জানায়, পুকুরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে রোগজীবাণু, ডেঙ্গুর মশা ও নানা ধরনের কীটপতঙ্গের বিস্তার ঘটে। এতে পানি ও পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঝুঁকি কমাতেই নগর ও জেলার সরকারি-বেসরকারি পুকুরগুলো পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হচ্ছে।

কর্মসূচিতে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ প্রশাসন ও পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

জেএন/এমআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ