সমুদ্র দর্শনের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদ: লোহাগাড়ায় মিনিট্রাক-বাইক সংঘর্ষে ঝরে গেল দুই প্রাণ

অনলাইন ডেস্ক

সমুদ্রের নীল জলরাশি আর ঢেউয়ের গর্জন মেখে রঙিন এক ঝাকুনি নিয়ে বাড়ির পথ ধরেছিলেন দুই বন্ধু-তৌহিদ আর মাহি।

- Advertisement -

চাঁদপুর থেকে বাইক হাকিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের সেই স্মৃতি তখনও তরতাজা। কিন্তু সেই আনন্দ যে পথের এক বাঁকেই নির্মম ট্র্যাজেডিতে রূপ নেবে, তা কে জানত!

- Advertisement -
google news follower

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার ঠাকুরদিঘী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় চারপাশ তখন সবে আলো আঁধারিতে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ঠিক তখনই ঘটে সেই বিভীষিকা।

চট্টগ্রামমুখী মোটরসাইকেলটির সামনে চলে আসে উল্টো দিক থেকে আসা এক দ্রুতগতির মিনিট্রাক। বিকট শব্দে ঘটে মুখোমুখি সংঘর্ষ। মুহূর্তেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় দুই তরুণের স্বপ্ন ও বাহন।

- Advertisement -
islamibank

ঘটনাস্থলেই রক্তে ভেসে যায় বাইক চালক ফিরোজ আহমেদ তৌহিদের (২০) দেহ। সংজ্ঞাহীন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন সঙ্গী মাহি উদ্দিন (২৫)।

পরে স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মাহিকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চমেকের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তৌহিদ চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার সাহাব পাড়া এলাকার মো. মনির হোসেনের পুত্র এবং মাহি একই থানার শাহার পাড়া এলাকার পাটোয়ারী বাড়ির মিজান পাটোয়ারীর পুত্র।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ এতটাই জোরালো ছিল যে দুর্ঘটনার পরপরই এলাকাটি থমথমে হয়ে পড়ে। ঘটনার সুযোগ নিয়ে ঘাতক মিনিট্রাকটির চালক ও হেলপার গাড়িটি রেখেই চম্পট দেয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠাই। সেখান থেকে একজনকে মৃত অবস্থায় এবং অপরজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চমেকে পাঠানো হয়েছিল।

দুর্ঘটনা কবলিত মিনিট্রাক ও মোটরসাইকেলটি বর্তমানে হাইওয়ে থানা হেফাজতে রয়েছে। ঘাতক চালককে চিহ্নিতকরণসহ এ বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, লোহাগাড়ার দুর্ঘটনায় আহত যুবককে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ দুটি মর্গে রাখা হয়েছে।

স্বপ্নের সমুদ্র দেখে বাড়ি ফেরার পথে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত নিহতদের পরিবার ও পুরো কচুয়া এলাকা। মুহূর্তের অসাবধানতা নাকি বেপরোয়া গতি-কাকে দায়ী করবে স্বজনরা? উত্তর নেই, আছে শুধু দুই তরুণের বুকফাটা নিথর বাস্তবতা।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ