চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট-নাসিরাবাদ এলাকার ‘সিটি রাজবাড়ী রেস্তোরাঁয়’ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে খাবার তৈরির উপকরণে জীবিত ও মৃত তেলাপোকা এবং ছারপোকার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
একই সঙ্গে কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ, পোড়া তেল মজুদ, মেয়াদোত্তীর্ণ মোরব্বা সংরক্ষণসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে।
এসব অনিয়মের দায়ে রেস্তোরাঁটির মালিকপক্ষকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আক্তার কণার নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে রেস্তোরাঁটির রান্নাঘর ও খাদ্য সংরক্ষণস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা।
সেখানে ডালডা, কিসমিস, দুধ, মোরব্বা, তেল, মসলা ও রুটি তৈরির খামিসহ বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের মধ্যে জীবিত ও মৃত তেলাপোকা এবং ছারপোকা বিচরণ করতে ও পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ ছাড়া রেস্তোরাঁটির ফ্লোর স্যাঁতস্যাঁতে এবং টাইলস ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। ফ্রিজারে কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
অভিযানে পোড়া তেল মজুদ, মেয়াদোত্তীর্ণ মোরব্বা সংরক্ষণ এবং অননুমোদিত ঘি ব্যবহার করে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের প্রমাণও পাওয়া যায়।
বিরিয়ানি তৈরিতে ক্ষতিকর কেওড়াজল ব্যবহারের প্রমাণও পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি রেস্তোরাঁটির হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
এসব অনিয়মের কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৮ ও ৩৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মেট্রোপলিটন কার্যালয়, চট্টগ্রামের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং পাঁচলাইশ থানা, সিএমপি, চট্টগ্রামের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা করে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




