চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আবরার নামের আট বছর বয়সী শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন ছিল। ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু রোগীর বিবরণীতে শিশুটির মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত আবরারের বাড়ি নগরের হালিশহর এলাকায়। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত ৯ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, পরীক্ষায় এনএসওয়ান পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর আবরারের ডেঙ্গু নিশ্চিত করা হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম’।
আবরারের মৃত্যুর মধ্যেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন, ২৫০ শয্যা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন এবং চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দুজন রয়েছেন।
এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আরও ছয়জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৩৮০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৪১৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এ সময়ে চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৬ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৫৬৯ জন।
তবে এর মধ্যেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। সর্বশেষ মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হয়েছে হালিশহরের আট বছর বয়সী শিশু আবরারের নাম।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামে রোগীদের চিকিৎসা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
একদিকে প্রতিদিন নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি, অন্যদিকে শিশুসহ মৃত্যুর ঘটনা-সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।




