পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, আন্তঃসম্প্রীতি ও অখণ্ড নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি এবং পরামর্শক কমিটি গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছরের ইতিহাসে পাহাড়ে বৈষম্যহীন ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অতীতে কোনো সরকার এমন সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেনি উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে পার্বত্যাঞ্চলের নাগরিক ও সংগঠন পিসিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
পিসিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজুর দক্ষ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক অঙ্গনের প্রবীণ ও নবীন নেতৃবৃন্দ।
পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নে পিসিএনপির ৮ দফা দাবি:
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার পাশাপাশি প্রধাানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করে পার্বত্য অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের অধিকার রক্ষায় ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন কাজী মজিবুর রহমান।
দাবিগুলো হলো:
১. সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠা: পার্বত্য চট্টগ্রামে ঔপনিবেশিক যুগের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ‘শাসনবিধি-১৯০০’ চিরতরে বাতিল করে দেশের সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন শাসনব্যবস্থা চালু করা।
২. ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ সুবিধা: সমতলের ন্যায় পার্বত্য অঞ্চলেও সংবিধানসম্মত ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু করা, স্থগিত থাকা ভূমি বন্দোবস্ত পুনরায় শুরু করে ভূমিহীন বাঙালি ও উপজাতিদের মাঝে জমি বণ্টন করা, বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ চালু করা এবং ভূমি কমিশনে বাঙালি সদস্য অন্তর্ভুক্তিসহ উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রাখা।
৩. সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ: তথাকথিত “পার্বত্য চুক্তি” বাতিল করে দেশের সংবিধান অনুযায়ী সকল জাতিসত্তার সংখ্যানুপাতিক ও সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা।
৪. সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার: জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১০৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এবং প্রতি ১ কিলোমিটার পর পর বিজিবির বিওপি (BOP) স্থাপন করা।
৫. সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপন ও ডিভিশন গঠন: দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জানমালের সুরক্ষায় পূর্বে প্রত্যাহারকৃত ১টি ব্রিগেড ও ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনসহ সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে ১টি পূর্ণাঙ্গ সেনাদিবিশন স্থাপন করা।
৬. পর্যটন ও শিল্পায়ন: পার্বত্য অঞ্চলকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা এবং ছোট-বড়-মাঝারি শিল্পকারখানা গড়ে তুলে স্থানীয় উপজাতি ও বাঙালি তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
৭. বৈষম্যহীন অধিকার ও আয়কর সমতা: শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সব ধরনের বৈষম্য দূর করে পাহাড়ে বসবাসরত সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ প্রদান ও আয়কর মওকুফের সুবিধা সবার জন্য সমান রাখা।
৮. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন: তিন পার্বত্য জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ১০০ শয্যা এবং জেলা হাসপাতালগুলোকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা।
সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অন্যতম নেতা প্রফেসর আশরাফ আলী আকন্দ।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপির উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক কামাল পারভেজ, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ফয়েজ আহমেদ, পিসিসিপির সাবেক সভাপতি ও মাতৃভূমি সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাত ফরাজী সাকিব, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও রাঙ্গামাটি পিসিএনপির সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক কাউন্সিল ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মজিদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, পিসিসিপির সাধারণ সম্পাদক হাবীব আজম, পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল এম এ আমিন এবং দপ্তর সম্পাদক শাহ জালাল।
বক্তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, নবগঠিত কমিটিগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতি ও বাঙালি-সকল জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।




