চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিরাপদ খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাবুর্চিসহ খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রতি শনিবার রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অনিয়মের কারণে কোনো কোনো রেস্তোরাঁকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হলেও কয়েক মাস পর আবার একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এ অভিজ্ঞতা থেকে শুধু জরিমানা ও শাস্তির ওপর নির্ভর না করে রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে চায় জেলা প্রশাসন।
“এভাবে জরিমানা করে, শুধু প্রেসার ক্রিয়েট করে, শাস্তি দিয়ে আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছি না। আমরা কোনোভাবেই শুধু জরিমানা আদায় করে রেস্তোরাঁগুলোর পরিবর্তন করতে চাই না। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তাদের দায়িত্বশীলতা ও দায়িত্ববোধ থেকেই পরিবর্তন আসবে,” বলেন জেলা প্রশাসক।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেস্তোরাঁয় খাবার তৈরি ও পরিবেশনের পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময়ও নানা অনিয়ম সামনে আসছে। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে জেলা প্রশাসন। বৈঠকে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার ভিত্তিতে প্রতি সপ্তাহে একটি দিন রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য শনিবারকে বেছে নিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা।
জেলা প্রশাসক জানান, আগামী শনিবার রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের নিয়ে একটি র্যালি করা হবে। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁগুলো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কতটা বাস্তবায়ন করছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বৈঠকে রেস্তোরাঁ মালিকেরা বাবুর্চি ও খাবার প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তালিকা চেয়েছে জেলা প্রশাসন।
“তাদের ট্রেনিং দেব। তাদের স্টাফদের আমরা ট্রেনিং দেব, হাইজিন ট্রেনিং দেব। নিজেদের কীভাবে সুস্থ রাখতে হয়, সেটাও শেখানো হবে,” বলেন জাহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করা এবং অনিরাপদ খাবার গ্রহণের কারণে কর্মীরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এর আগে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে ১০ দিনের সময় দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী যে গ্রেডের লাইসেন্স নিয়ে কোনো রেস্তোরাঁ পরিচালিত হচ্ছে, সেই মান বজায় রাখতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির গ্রেড কমিয়ে দেওয়ার কথাও জানান জেলা প্রশাসক।
নিয়মিত গণশুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতি বুধবার চিকিৎসাসহায়তা চেয়ে অনেক মানুষ জেলা প্রশাসনের কাছে আসেন। তাঁদের মধ্যে কিডনি রোগীও রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ভেজাল ও অনিরাপদ খাবারের জনস্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, “আমার দেশের একমাত্র সম্পদ হচ্ছে আমাদের জনগণ। আমরা এত বড় একটা জনগণকে যদি অসুস্থ রাখি, তাহলে এই অসুস্থ জনগণকে টেনে নেওয়ার মতো ক্ষমতা আমাদের অর্থনীতির নেই।”
নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ মালিক, কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবাইকে নিয়ে একটা সচেতন সমাজ, একটা মানবিক সমাজ, একটা নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
জেএন/এমআর




