চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে পাহাড়ের লেবু বাগান থেকে আবদুল মাবুদ (৫৫) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, পাহাড়ে বিচরণ করা মহিষের গুঁতোয় তার মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া খালের পাশে একটি লেবু বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবদুল মাবুদ কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চম্পা তালুকদার পাড়ার মৃত ইউছুপ নবীর ছেলে। তার দুই মেয়ে ও তিন ছেলে রয়েছে। লেবু বাগানে কাজ করার পাশাপাশি পাহাড়ে বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদ করতেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে লেবু বাগানে কৃষিকাজ করতে যান আবদুল মাবুদ। সাধারণত কাজ শেষে বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি ফিরতেন তিনি। কিন্তু সেদিন বিকেল গড়িয়ে গেলেও তার দেখা না মেলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
পরে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তাকে খুঁজতে বের হন পরিবারের সদস্যরা। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ডুমুরিয়া খালের পাশে লেবু বাগানে আবদুল মাবুদকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কাছে গিয়ে দেখা যায়, তিনি আর বেঁচে নেই।
নিহতের ভাগিনা সাগর তালুকদার বলেন, মামা প্রতিদিন লেবু বাগানে কাজ করতে যেতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি না ফেরায় তাকে খুঁজতে গিয়ে বাগানে মরদেহ পাওয়া যায়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
সাগর তালুকদারের ধারণা, মহিষের আক্রমণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আবদুল মাবুদের মৃত্যু হয়েছে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, খবর পেয়েছি, মহিষের গুঁতোয় আবদুল মাবুদ নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
তিনি জানান, ওই পাহাড়ে কয়েকটি মহিষের পাল লালন-পালন করা হয়। এসব মহিষ অনেক সময় উন্মুক্তভাবে পাহাড়ে বিচরণ করে।
প্রতিদিনের কর্মস্থল সেই পাহাড়ের লেবু বাগানেই শেষ হলো আবদুল মাবুদের জীবন। পরিবারের কাছে স্বাভাবিক একটি কর্মদিবসের প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে এক মর্মান্তিক শোকের ঘটনায়।




