শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রতিটি মণ্ডপে পাহারার ব্যবস্থা করবে বিএনপি: শামীম

অনলাইন ডেস্ক

ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার—এই চেতনাকে ধারণ করে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাহারার ব্যবস্থা করবে বিএনপি। পূজা উদ্‌যাপন কমিটি, স্থানীয় নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহাবুবের রহমান শামীম।

- Advertisement -

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের জিয়াস্মৃতি জাদুঘরের অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

- Advertisement -
google news follower

মাহাবুবের রহমান শামীম বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি দেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির অনুষঙ্গ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসাথে বসবাস করছেন। একে অন্যের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেওয়া এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দলের নেতাকর্মীরা প্রতিটি পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকবেন। চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থানীয় বিএনপি নেতারা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কোনো মণ্ডপে যেন নিরাপত্তার ঘাটতি না থাকে, সে জন্য স্থানীয় নেতারা পূজা কমিটি ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। একই সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি।

- Advertisement -
islamibank

মাহাবুবের রহমান শামীম আরও বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই আমরা সবাই বাংলাদেশি। প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। চট্টগ্রাম জেলায় গত বছর ২ হাজার ২০২টি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এবার ৭২টি বেড়ে পূজার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৭৪টিতে। পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উৎসবের পরিসর সম্প্রসারণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। এবারের দুর্গোৎসব আরও আনন্দমুখর ও নিরাপদ করতে বিএনপি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করতে কেউ উসকানি দিলে বা গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে তা মোকাবিলায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের মানুষ একে অন্যের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে সম্প্রীতির যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। দুর্গাপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিশ্চিন্তে উৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের তাঁদের পাশে থাকতে হবে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রশাসন ও পূজা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, চট্টগ্রামে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তা আমাদের গর্বের বিষয়। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও আমরা একই সমাজের মানুষ। একে অন্যের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। দুর্গাপূজাকে ঘিরে সেই সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বাংলাদেশে কেউ অধিকারবঞ্চিত হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক সবার অধিকার ও নিরাপত্তা সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। দলের কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাঁর বিরুদ্ধেও সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

আবু সুফিয়ান এমপি বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবের আনন্দ ও সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রতিটি মানুষ নিরাপদ বোধ করেন এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে আলাদা করে দেখা হবে না। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—আমরা সবাই এ দেশের মানুষ, এ মাটিরই সন্তান। একে অন্যের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো এবং বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক বন্ধনেরই অংশ। এই সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো মহল যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

জেএন/এমআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ