বিক্রি-হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান রনির ফ্ল্যাট নিয়ে তদন্ত

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের অভিজাত এলাকা রিজেন্টস পার্কের কাছে প্রায় দেড় কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট।

- Advertisement -

বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির সঙ্গে ফ্ল্যাটটির সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থ পাচারের সন্দেহকে কেন্দ্র করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -
google news follower

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) ফ্ল্যাটটি কেনার অর্থের উৎস ও এর প্রকৃত মালিকানা নিয়ে তদন্ত করছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

- Advertisement -
islamibank

প্রতিবেদন অনুসারে, ফ্ল্যাটটি কেনার অর্থ কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে আদালতে জানিয়েছে এনসিএ।

সংস্থাটির তদন্তে সম্পত্তিটির প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার জন্য জটিল কাঠামো ব্যবহারের অভিযোগও উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী আইনের আওতায় সম্পদের অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে সেটি অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে-এমন ধারণার ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন বা তদন্ত চলা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।

আদালতে এনসিএর বক্তব্য, ফ্ল্যাটটির সঙ্গে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, প্রতারণা ও অর্থ পাচারের সন্দেহজনক যোগসূত্র রয়েছে।

সংস্থাটির দাবি, সম্পত্তিটির প্রকৃত মালিক আনিসুজ্জামান ‘রনি’ চৌধুরী। তাঁর কোম্পানি যে অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাটটি কিনেছে, সেই অর্থের উৎস তিনি ব্যাখ্যা করতে পারেননি বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

ফ্ল্যাটটির মালিকানা কাঠামো নিয়েও তদন্তকারীদের প্রশ্ন রয়েছে। এনসিএর একজন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে লিখিত সাক্ষ্যে বলেন, প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে জটিল মালিকানা কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল।

তদন্তের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্ল্যাটটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার মাত্র এক পাউন্ডের বিনিময়ে তৃতীয় একটি পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এনসিএর অভিযোগ, এর মাধ্যমে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণ আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে সম্পত্তিটির মালিকানা তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল বলেও সংস্থাটি দাবি করেছে।

যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের নথি অনুযায়ী, আনিসুজ্জামান চৌধুরী ২০২৩ সালে ‘রনি ৪২ লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে রিজেন্টস পার্ক এলাকার ফ্ল্যাটটি কেনেন।

সে সময় সম্পত্তিটির মূল্য ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ড। পরে কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে ‘পিএনএন ইউকে প্রপার্টিজ’ রাখা হয় বলে হাইকোর্টে জানানো হয়েছে।

ফ্ল্যাটটির মূল্য, কেনার অর্থের উৎস এবং মালিকানা কাঠামো-এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই তদন্ত এগোচ্ছে।

আদালতের সামনে এনসিএর বক্তব্য ছিল, সম্পত্তিটি অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে কেনা হয়ে থাকতে পারে—এমন দাবি করার যথেষ্ট যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে।

এই যুক্তির ভিত্তিতে বিচারপতি কারেন স্টেইন ফ্ল্যাটটির বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেন।

তবে বাড়ির মালিক যেন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে সম্পত্তির দখল ফিরে পেতে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন, সে সুযোগ রাখা হয়েছে।

আদালতে আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরোধিতা করেননি।

এটি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির বৃহত্তর তদন্তের অংশ। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।

তাঁর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করার জন্যও আদালত নির্দেশ দেন।

সাম্প্রতিক ফ্ল্যাট-সংক্রান্ত আদেশটি সেই বৃহত্তর তদন্তের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদ নিয়ে আগের আদালতের আদেশ এবং আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ফ্ল্যাট নিয়ে বর্তমান কার্যক্রমকে পৃথক আইনি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

অন্যদিকে, আনিসুজ্জামান চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি কোনো বেআইনি কাজ করেননি। সম্পদের মালিকানা গোপন করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো দেওয়ানি মামলা করা হলে তিনি তা জোরালোভাবে মোকাবিলা করবেন।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ