ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, সামাজিক ও পরিবেশগত ন্যায়বিচার এবং নীতিনির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
তাঁদের মতে, নগর উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।
নিরাপদ আবাসন, বিশুদ্ধ বায়ু, পানি নিরাপত্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে।
বিশ্ব নগর দিবস উপলক্ষে শনিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের MAC Auditorium-এ আয়োজিত ‘জাস্ট আরবান ট্রানজিশন কনফারেন্স ২০২৬’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে নগর পরিকল্পনা, বায়ুদূষণ, জলবায়ু অভিযোজন, আবাসন সংকট, পানি নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সালিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও মানুষের দারিদ্র্য দূর হয়নি।
শহরের দূষণ কেবল একটি উপসর্গ; সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। এমন নগর গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার বিকাশের সুযোগ থাকবে।
‘জলবায়ু সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গঠন: আবাসন, পরিচ্ছন্ন বায়ু, পানি নিরাপত্তা ও নগর শাসনব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি ফজলে রেজা শুমন।
আলোচনায় সাশ্রয়ী আবাসন, পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্রাইটার্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, তরুণদের শুধু নীতি বাস্তবায়নে নয়, নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও যুক্ত করতে হবে।
অন্যদিকে, ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইয়েডো) প্রতিষ্ঠাতা রবিউল ইসলাম জানান, পরীক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তিন মাসে ঢাকার ৩৫০টির বেশি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণের সম্ভাবনা প্রমাণিত হয়েছে।
‘জলবায়ু সহনশীল নগর’ অধিবেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিআইপির ১৭তম নির্বাহী পর্ষদের সহসভাপতি শাইখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান।
আলোচনায় তাপপ্রবাহ মোকাবিলা, সবুজ পরিসর বৃদ্ধি, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান এবং জলবায়ু অভিযোজন জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্মেলনের সমাপনী পর্বে নীতিগত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ।
তিনি বলেন, যে শহর দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে বড় হয়, সেটি প্রকৃত অর্থে উন্নত হয় না, বরং বিদ্যমান বৈষম্যকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। আবাসন মানুষের অধিকার হওয়া উচিত, সামর্থ্যের ভিত্তিতে পাওয়া কোনো পুরস্কার নয়।
সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ নীতিগত উপদেষ্টা ড. মো. শিবলী সাদিক এবং সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক শোহাইল সাইফুল্লাহ।
আলোচনায় আগামী কপ-৩১-সহ আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় তরুণদের নগর ও জলবায়ুবিষয়ক অগ্রাধিকার তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, বাসযোগ্য ও টেকসই নগর গড়তে সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী এবং তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।




