সফল শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন মোদি

বিশেষ সম্পাদকীয়

0

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা এখন গগনচুম্বী। এশিয়া ছাড়িয়ে বিশ্ব নেতা হয়ে উঠেছেন তিনি। অবাক হলেও সত্যি, শেখ হাসিনার দেখানো কৌশলী পথে হাঁটছেন নরন্দ্রে মোদী! পড়ুন জয়নিউজের সম্পাদক অহীদ সিরাজ চৌধুরীর বিশেষ সম্পাদকীয়-

বাংলাদেশের সদ্য সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত একটি ডকু-ফিকশন। এবার ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবনী নিয়ে বাজারে আসছে বায়োপিক ছবি ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’। যা মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী ১২ এপ্রিল। মজার ব্যাপার হলো, ছবিটি মুক্তির আগের দিন অর্থাৎ ১১ এপ্রিল থেকে লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। দেশের রাজনীতিতে ভোটের মধ্যে এই বায়োপিক নিয়ে কেমন তোলপাড় হতে পারে তা জানা যাবে ১২ এপ্রিলের পর।

বাংলাদেশের রাজনীতি বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ সিনেমাপ্রেমী সবাই জানেন, নন্দিত নির্মাতা পিপলু খানের পরিচালনায় ‘হাসিনা’ ডকু-ফিকশনটি নির্মিত হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের দুঃখ-বিষাদ, ব্যক্তিগত আখ্যান, আর নৈকট্যের গল্পগুলো নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন (২৮ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে প্রচার হয় ‘হাসিনা, অ্যা ডটারস টেল’শিরোনামের একটি সিনেমার ট্রেলার। যেটি তখন সর্বমহলে প্রশংসা কুড়ায়। অতঃপর গত বছরের ১৬ নভেম্বর স্বল্পদৈর্ঘের সিনেমাটি মুক্তি পেলে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়। যা ভোটের রাজনীতিতেও শেখ হাসিনাকে আরো বেশি জনতার কাছে নিয়ে যায়।

ঠিক একই কায়দায় ভারতে ১২ এপ্রিল ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’ মুক্তি পাচ্ছে দেশজুড়ে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তৈরি হয়েছে সেই বায়োপিক। এই বায়োপিক নির্মাণ করেছেন পরিচালক ওমাং কুমার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বলিউড তারকা বিবেক ওবেরয়। ছবিটির বেশিরভাগ অংশের শুটিং হচ্ছে গুজরাত, হিমাচল ও দিল্লিতে। প্রথমে অভিনেতা-সাংসদ পরেশ রাওয়ালের এ ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয়ের কথা থাকলেও পরে তিনি সরে যান। তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় বিবেককে। এ ছবির হাত ধরেই বিবেক বলিউডে কামব্যাক করতে চলেছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে সম্প্রতি এই বায়োপিক নিয়ে কিছু খবর বেরিয়েছে। যেখান থেকে যায়, এই বায়োপিকে তুলে ধরা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শৈশব থেকে রাজনৈতিক জীবন, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নানা কাহিনি। এর আগে এই পরিচালক ভারতের প্রখ্যাত বক্সার মেরি কমকে নিয়ে বায়োপিক তৈরি করেন।

শুধু কি বায়োপিক সিনেমা দিয়ে ভোটারদের মন জয়? না; হাসিনার আরো একটি কৌশল অনুসরণ করছেন মোদী। সেটি হলো, রূপালী পর্দার মানুষদের কাছে টেনে নেওয়া। সম্প্রতি একঝাঁক বলিউড তারকার সঙ্গে মিলিত হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন করণ জোহর, রণবীর সিং, রণবীর কাপূর, আলিয়া ভাট, ভিকি কৌশল, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, বরুন ধাওয়ান, রহিত শেট্টিরা। যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারণায় দেশের খ্যাতমান শিল্পী, সাহিত্যিক, খেলোয়াড় ও বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতি।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে একটা বৈঠক ডাকেন। বলিউডের নবীনতম অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা ওই বৈঠকে আসেন। বৈঠক শেষ হওয়ার পর সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সেলফি নেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া জাগায়।

দেশের জনগণের নজর এই ছবির উপর পড়তেই ছবি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও মন্তব্য আসতে শুরু করে। বলিউড গ্যাং’র ছবি যতটা না গুরুত্ব পায়, তার চাইতেও বেশি গুরুত্ব পায় ছবিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী থাকলে। সে ছবির গুরুত্ব ১০০ গুন বেড়ে যায়, যার প্রমাণ নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অভিনেতা-নেত্রীদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়া।

মোদি নিশ্চয় জেনেছেন, আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে জয়লাভ করানোর উদ্দেশ্যে সিনেমার মঞ্চ থেকে রাজনীতির মঞ্চে এসে বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রিয়াজ ও ফেরদৌস। নির্বাচনি প্রচারণায় হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করেছিলো মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সত্যজিৎ দাশ রুপু, আশরাফ উদ্দিন চুন্নু, অভিনেতা জাহিদ হাসান, মাহ্ফুজ আনাম, শহীদুল আলম সাচ্চু, চিত্রনায়িকা অরুণা বিশ্বাস, নূতন, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, তারিন জাহান, তানভীন সুইটি, আজমেরী বাঁধন, শামীমা তুষ্টি, চলচ্চিত্র অভিনেতা সাইমন সাদিক, কণ্ঠশিল্পী এস ডি রুবেল প্রমুখ।

রাজনৈতিক রসিক মহলের খবর, এভাবেই কি হাসিনার দেখানো পথে হাঁটছেন মোদী? বিশেষ করে গত ১২ মার্চ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞের প্রশংসা করে নরেন্দ্র মোদী জানালেন, এই যজ্ঞে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পেরে ভারত গর্বিত। উত্তরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আবার ঘোষণা করলেন, তাঁর দেশের মাটি থেকে জঙ্গিবাদকে উচ্ছেদ করতে তিনি বদ্ধপরিকর। হাসিনা সবসময় নিজেকে দাবি করেন- তিনি দেশের অতন্দ্র প্রহরী। হাসিনা আরো বলেন- স্বজন হারানো ব্যথায় দেয়ালে ঠেকে গেছে পিঠ। দেশকে পাহারা দেওয়া ছাড়া তাঁর আর কিছুই করার নেই। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী।

ঠিক একই কায়দায় নরেন্দ্র মোদিও সম্প্রতি স্লোগান তুলেছেন- ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’(আমিও একজন পাহারাদার)। টুইটার অ্যাকাউন্টে নামের আগে ‘চৌকিদার’ শব্দটি যোগ করেন তিনি। এভাবেই হুবহু বাংলাদেশ নির্বাচন মডেলকে অনুকরণ করে আগাচ্ছে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি।

দুই প্রতিবেশী দেশের মোদী-হাসিনা’র এমন যুগলবন্দিত্ব অনুকরণকে খেয়াল করছেন দুই দেশের সজাগ রাজনৈতিক পাঠকেরা। এখন দেখার পালা, সিনেমার হিরো-হিরোইনকে পথে নামিয়ে, চৌকিদার ও পাহারাদার হয়ে এবং বায়োপিক প্রচার করে সত্যিই কি কৌশলী হাসিনার মতো জনতার মন জয় করতে পারবেন নরেন্দ্র মোদি?

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, জয়নিউজ।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...