‘অপঘাতে’ অস্বস্তিতে সরকার

0

নতুন সরকারের প্রথম মাসটা কেটেছে ভালো-মন্দ মিলিয়ে। ফেব্রুয়ারিতে পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয় পুরো দেশ। মার্চের শেষভাগে সরকারের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ড। অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ, তিন মাসে সড়কে ঝরেছে শতাধিক প্রাণ। সবমিলিয়ে নানা অপঘাতে মৃত্যুর মিছিলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় নতুন শুরুটা বেশ অস্বস্তিতেই কেটেছে আওয়ামী লীগ সরকারের।

একের পর এক আগুন বিপদ

১৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন লাগে। এসময় সহস্রাধিক রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়।

১৮ ফেব্রুয়ারি নগরের বাকলিয়া থানার চাক্তাই ভেড়া মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের ৭ জনসহ মোট আট জন জীবন্ত দগ্ধ হন। পুড়ে ছাই হয় চারশ’ ঘর।

২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৭৯ জন নিহত হন। দগ্ধ হন অর্ধশতাধিক।

২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জন নিহত ও ৭৩ জন আহত হন।

৩০ মার্চ রাজধানীর গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে (কাঁচাবাজার) লাগা আগুনে দুই শতাধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সড়কে মৃত্যুর মিছিল

৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনে ঝরে ১৩ প্রাণ। ১০ ফেব্রুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীসহ নিহত হন আট জন। ১১ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জে পাঁচ বন্ধুসহ সারাদেশে সড়কে মৃত্যু হয় ২১ জনের।

১৯ মার্চ রাজধানীর প্রগতি সরণির জেব্রা ক্রসিংয়ে রাস্তা পার হওযার সময় বাসচাপায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হন। এ ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে ১০ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। অবরোধ-বিক্ষোভ হয় এর পরের দিনও।

২১ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ১৪ জন নিহত হন। ২২ মার্চ বরিশালে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে সাত জনসহ সারাদেশে ১৩ জনের প্রাণ ঝরে সড়কে।

২৩ মার্চ সড়ক দুর্ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীসহ আটজন নিহত হন দেশের বিভিন্ন স্থানে। ২৫ মার্চ দুই শিক্ষার্থীসহ সাত জন ও ২৬ মার্চ ছয় জন নিহত হন সড়ক দুর্ঘটনায়।

২৭ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে লোহাগাড়ার চুনতির জাঙ্গালিয়া এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের (হাইস) মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ আটজন নিহত হন।

আলোচনায় বিমান ছিনতাই চেষ্টা, ডাকসু নির্বাচন ও বাঘাইছড়ির ব্রাশফায়ার

আগুন আর সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়াও সরকারকে অন্য কিছু বিষয়েও বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এরমধ্যে ডাকসু নির্বাচন, বিমান ছিনতাই চেষ্টা ও বাঘাইছড়িতে ভোটের সরঞ্জামের গাড়িতে ব্রাশফায়ার উল্লেখযোগ্য।

২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী একটি বিমান ছিনতাই চেষ্টা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। তবে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আট মিনিটের কমান্ডো অভিযানে অস্ত্রধারী নিহত হন এবং যাত্রী-ক্রুসহ ওই বিমানের সবাই নিরাপদে নেমে আসেন।

১১ মার্চের ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও ক্লাস বর্জনের ঘটনা ঘটে। এসময় মিছিল-বিক্ষোভে উত্তাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

১৮ মার্চ রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ভোটের সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে যাওয়ার সময় দুটি গাড়িতে এলাপাতাড়ি গুলিতে নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ৭ জন নিহত হন।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...