বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বপ্নিল সূচনা

ব্যাটে-বলে দোর্দণ্ডপ্রতাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়ে বিশ্ব মহারণে টাইগারদের শুরুটা হয়েছে স্বপ্নের মতো। প্রথমে ব্যাট করে প্রোটিয়াদের রেকর্ড ৩৩১ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল টাইগাররা। সেই রান তাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ উইকেট হারিয়ে করে ৩০৯ রান। ম্যাচসেরা হয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

রোববার (২ জুন) ইংল্যান্ডের ওভালে ৩৩১ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দশম ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজের বলে  ওপেনার ডি ককের ক্যাচ উঠলেও মুশফিক বল গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি। কিন্ত ক্রিজ ছেড়ে বের হওয়া কককে রানআউট করতে ভোলেননি মুশফিক। দলীয় ৪৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। এরপর ৫৩ রানের জুটি গড়েন দলপতি ফাফ ডু প্লেসিস এবং ওপেনার আইডেন মার্কারাম। ইনিংসের ২০তম ওভারে সাকিব বোল্ড করেন মার্কারামকে। দলীয় ১০২ রানের মাথায় প্রোটিয়ারা দ্বিতীয় উইকেট হারায়। বিদায়ের আগে মার্কারাম ৫৬ বলে চারটি চারের সাহায্যে করেন ৪৫ রান।

২৭তম ওভারে মিরাজের দুর্দান্ত এক ঘূর্ণিতে বোকা বনে যান প্রোটিয়া দলপতি ফাফ ডু প্লেসিস। বোল্ড হওয়ার আগে ৫৩ বলে ৫ চার আর এক ছক্কায় করেন ৬২ রান। ইনিংসের ৩০তম ওভারে সাকিবের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ডেভিড মিলার। সৌম্য সরকার লাফিয়ে ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১৮ রানে জীবন পান কিলার মিলার। ব্যক্তিগত ৩২ রানের মাথায় মোস্তাফিজের বলে আবারো ক্যাচ তুলে দেন মিলার। থার্ডম্যানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ক্যাচটি নিতে পারেননি। ৩৬তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে মিরাজের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন ডেভিড মিলার। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মিরাজের হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি ৪৩ বলে দুই বাউন্ডারিতে করেন ৩৮ রান।

৩৮তম ওভারের প্রথম বলে মোস্তাফিজের ডেলভারি জেপি ডুমিনির প্যাডে লাগলে আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। রিভিউয়ে বেঁচে যান ডুমিনি। ৪০তম ওভারের প্রথম বলে সাইফউদ্দিন বোল্ড করেন ভ্যান ডার ডুসেনকে। দলীয় ২২৮ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। ডুসেন সাজঘরে ফেরার আগে ৩৮ বলে দুই চার আর এক ছয়ে করেন ৪১ রান। ৪৩তম ওভারে সাইফ ফিরিয়ে দেন ফেলুকাওয়োকে। কাভারে সাকিবের দুর্দান্ত এক ক্যাচে বিদায় নেওয়ার আগে তিনি করেন ১৩ বলে ৮ রান।

ইনিংসের ৪৬তম ওভারে মোস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন ক্রিস মরিসকে। ডিপ মিড উইকেটে সৌম্যর হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি ১০ বলে করেন ১০ রান। ইনিংসের ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে ৪৫ রান করা জেপি ডুমিনিকে বোল্ড করেন মোস্তাফিজ। প্রোটিয়ারা দলীয় ২৮৭ রানে অষ্টম উইকেট হারায়। কেগিসো রাবাদা ১৩ আর ইমরান তাহির ১০ রানে অপরাজিত থাকেন। ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস থামে ৩০৯ রানের মাথায়।

মিরাজ ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে তুলে নেন একটি উইকেট। সাকিব ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে তুলে নেন একটি উইকেট। আর এই এক উইকেটের মধ্যদিয়ে সাকিব গড়েন দারুণ এক কীর্তি। ২০০ ওয়ানডে ম্যাচের কম খেলে ২৫০ উইকেট সঙ্গে ব্যাট হাতে ৫ হাজার রানের বিরল এক রেকর্ড গড়েন সাকিব। সাইফউদ্দিন ৮ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে তুলে নেন দুটি উইকেট। মাশরাফি ৬ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। মোসাদ্দেক ৬ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে উইকেট শূন্য থাকেন। মোস্তাফিজ ১০ ওভারে ৬৭ রান দিয়ে পান ৩ উইকেট।

রাজ্জাককে ছাড়িয়ে সাকিব
এইডেন মার্করামকে ফিরিয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম পাঁচ হাজার রান ও আড়াইশ উইকেটের কীর্তি গড়লেন সাকিব আল হাসান। আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা অলরাউন্ডারের এই অর্জনে লেগেছে ১৯৯ ম্যাচ। এর আগে এ রেকর্ড ছিল পাকিস্তানের আব্দুল রাজ্জাকের। এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারের লেগেছিল ২৩৪ ম্যাচ।

বিশ্বকাপে রেকর্ড রান বাংলাদেশের
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে রোববার (২ জুন) প্রোটিয়াদের মুখোমুখি হয়ে ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের বিশাল পুঁজি দাঁড়া করিয়েছে তারা। যা বিশ্বকাপে তো বটেই, পুরো ওয়ানডে ইতিহাসেই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ টাইগারদের।

সাকিবের বিদায়
ইমরান তাহিরের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৮৪ বলে ৭৫ রান করেন সাকিব। সাকিবের বিদায়ে উইকেটে আসেন মোহাম্মদ মিঠুন। মুশফিক ৭১ রানে ব্যাট করছেন।

সাকিব-মুশফিক জুটিতে পঞ্চাশ
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর বাংলাদেশকে টানছেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সফলতম জুটির দুই কারিগর ৫১ বলে গড়েছেন পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি।

একটু মন্থর শুরুর পর নিজের সব শট খেলতে শুরু করেছেন সাকিব। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন মুশফিক।

২২ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৩৭/২। সাকিব ৪১ ও মুশফিক ২৬ রানে ব্যাট করছেন।

বাংলাদেশের একশ
দুই ওপেনারকে হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। ষোড়শ ওভারে তিন অঙ্কে গেছে বাংলাদেশের স্কোর।

তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর একটু কমেছে বাংলাদেশের রানের গতি। ৭ ওভারে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিল দলের সংগ্রহ। পরের পঞ্চাশ এলো ৯ ওভারে।

১৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০০/২। সাকিব ২১ ও মুশফিক ১০ রানে ব্যাট করছেন।

শর্ট বলে ফিরলেন সৌম্য
আগে থেকেই জানা ছিল, শর্ট বল হবে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছিলেন, শর্ট বলের জন্য প্রস্তুত আছেন ব্যাটসম্যানরা। সেই শর্ট বলেই থামলেন সৌম্য সরকার।

ক্রিস মরিসের বল অ্যাঙ্গেলে বের হয়ে যাচ্ছিল। পুল করে ওড়াতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি ওপেনার। গ্লাভস ছুঁয়ে সহজ ক্যাচ যায় পেছনে। ছুটে এসে সামনে ঝাঁপিয়ে বল গ্লাভসে জমান কুইন্টন ডি কক।

৩০ বলে ৯ চারে ৪২ রান করেন সৌম্য। ১২ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৭৯/২। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মিডল অর্ডারের সবচেয়ে বড় ভরসা মুশফিকুর রহিম।

তামিমের বিদায়
ইনিংসের প্রথম থেকে দেখেশুনে খেলা তামিম ইকবাল ফিরেছেন ব্যক্তিগত ২৯ বলে ১৬ রানে। দলীয় ৫৮ রানের মাথায় ফেলুকায়োর বলে উইকেটের পেছনে ডি ককের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তামিম।

তামিম-সৌম্যের উড়ন্ত শুরু
তামিম-সৌম্যের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। ৭ ওভারেই দলীয় অর্ধশতক পূরণ করল এ জুটি। খুনে মেজাজে ছিলেন সৌম্য সরকার। অন্যদিকে দেখে শুনেই খেলছেন তামিম।

বিশ্বমঞ্চের মহারণে ব্যাটিং দিয়েই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের যাত্রা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং করছে টাইগাররা।

রোববার (২ জুন) ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৩টায় শুরু হয়েছে ম্যাচটি।

ওপেনিংয়ে সৌম্যের সঙ্গে থাকছেন তামিম। দলে নেই সাব্বির, তার বদলে রাখা হয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনাল জেতানো মোসাদ্দেক। ইনজুরি কাটিয়ে ম্যাচে আছেন সাইফ উদ্দিন।

বাংলাদেশ একাদশ
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মো. সাইফ উদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান।

দক্ষিণ আফ্রিকার একদশ
কুইন্টন ডি কক, এইডেন মার্করাম, ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), রাসি ভ্যান ডার ডুসেন, ডেভিড মিলার, জেপি ডুমিনি, আন্দিলে ফেলুকায়ো, ক্রিস মরিস, কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি ও ইমরান তাহির।

জয়নিউজ/পার্থ/এসআই

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...