সাকিব জাদুতে আফগান জয়

সাকিব আল হাসান- ব্যাটিংয়ে করেছেন মূল্যবান ৫১ রান। বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। বিশ্বকাপের এক আসরে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট নেওয়া মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার তিনি। তার আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন কপিল দেব ও যুবরাজ সিং। মূলত সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে কুপোকাত আফগানিস্তান।

বাংলাদেশের দেওয়া ২৬৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ওভারের আগেই সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০০ রান তোলে আফগানিস্তান। ফলে বাংলাদেশের কাছে ৬২ রানে হারে আফগানরা। এ জয়ের ফলে সেমিতে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকে থাকল টাইগারদের।

এদিকে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে পাঁচ উইকেট নিলেন সাকিব। যুবরাজের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ফিফটি ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বও দেখালেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার।

২৬৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি চোখ রাঙাচ্ছিল। পাওয়ার প্লে’র প্রথম ১০ ওভার নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেন গুলবাদিন নাইব আর রহমত শাহ। ১১তম ওভারে এসে বল হাতে নিয়েই এই জুটিটা ভেঙে দেন সাকিব আল হাসান।

সাকিবের বলটি মিডঅনে তুলে মারতে গিয়েছিলেন রহমত শাহ। জায়গা থেকে কিছুটা পেছনে সরে গিয়ে ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল। ৩৫ বলে আফগান ওপেনার করেন ২৪ রান।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৩০ রান করে বাংলাদেশ বোলারদের হতাশা বাড়াচ্ছিলেন গুলবাদিন নাঈব ও হাশমতউল্লাহ শহিদী। কিন্তু ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে ও দলীয় ৭৯ রানে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন শহিদী। মুশফিকুর রহিমের দুর্দন্ত স্টাম্পিংয়ে আউট হওয়ার আগে ৩১ বলে কোনো বাউন্ডারি ছাড়া ১১ রান করেন তিনি।

নিজের পঞ্চম ও দলীয় ২৯তম ওভারে এসে জোড়া উইকেট তুলে নিলেন সাকিব আল হাসান। প্রথম বলে গুলবাদিন নাঈবকে ও তৃতীয় বলে নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নবীকে (০) সরাসরি বোল্ড করেন সাকিব। নাঈব ৭৫ বলে তিনটি চারে ৪৭ করেছেন। এরই সঙ্গে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে এক হাজার রান ও ৩০ উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন সাকিব।

পরে আসগর আফগানকেও ব্যক্তিগত ২০ রানে বিদায় করে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন এই তারকা। দৌড়ে রান নিতে যাওয়া ইকরাম আলী খিল লিটন দাশের থ্রোতে রান আউট হন। এতে করে ষষ্ঠ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। আর পরের ওভারে নতুন ব্যাটসম্যান রশিদ খানকে ব্যক্তিগত দুই রানে ফিরিয়ে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান।

আফগানদের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মুজিব উর রহমানকে শূন্য রানে বোল্ড করে ম্যাচে একমাত্র উইকেটটি তুলে নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

১০ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ২৯ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান। এছাড়া মোস্তাফিজ দুটি উইকেট দখল করেন। আর মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট ভাগাভাগি করে নেন।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬২ রান তোলে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের ৮৩ রানের দায়িত্বপূর্ণ ইনিংস, সাকিব আল হাসানের ফিফটি ও শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেনের ঝড়ো ৩৫ রানের ইনিংসে ভর করে মাঝারি এই সংগ্রহ পেয়েছে টাইগাররা।

সোমবার (২৪ জুন) টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগানিস্তান অধিনায়ক গুলবাদিন নাঈব। বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ৩টায় রোজ বোলে শুরু হয় ম্যাচটি।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হলেও দলীয় ২৩ রানে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আউট হতে হয় টাইগার ওপেনার লিটন দাসকে। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি কিছুটা ঘাসে ছুঁয়ে ফিল্ডারের হাতে উঠেছে। কিন্তু তবু অনেকক্ষণ দেখার পর থার্ড আম্পায়ার হিসেবে থাকা আলিম দার লিটনকে আউট ঘোষণা করেন। দলীয় ২৩ ও ব্যক্তিগত ১৩ রানে মুজিব উর রহমানের বলে হাশমতুল্লাহ শহীদির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন।

শুরুতে লিটন দাসের বিদায়ের পর সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে তামিম ইনিংস জোড়া দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ভালোই। দুজনে মিলে যোগ করেন ৫৯ রান। কিন্তু দলীয় ৮২ রানে আফগান স্পিনার মোহাম্মদ নবীর বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন এই টাইগার ওপেনার। বিদায়ের আগে ৫৩ বল খেলে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৬ রান।

চলতি বিশ্বকাপে বাকি ম্যাচগুলোর মতো এই ম্যাচেও হেসেছে সাকিবের ব্যাট। চলতি বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় ও সবমিলিয়ে ৪৫তম ওয়ানডে ফিফটির দেখা পেয়েছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এটি চলতি বিশ্বকাপে তার ৫০-এর অধিক রানের স্কোর। ৬৫ বলে মাত্র ১ বাউন্ডারিতে এসেছে এই ফিফটি। কিন্তু ফিফটির দেখা পাওয়ার পর আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমানের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়লে শেষ হয় তার ৫১ রানের ইনিংস।

মুজিবের তৃতীয় শিকার হয়ে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। ওপেনিং থেকে পাঁচে নামিয়ে আনা এই বাঁহাতি মুজিবের বলে লেগ বিফোরের শিকার হয়ে ফিরেছেন। যদিও রিভিও নিয়েছিলেন সৌম্য, রিপ্লে দেখে অবশ্য আউটের ঘোষণাই আসে। তবে মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলেও পারতেন।

উইকেট পতনের ধাক্কা সামলে আফগান পেসার দাওলাত জাদরানের করা ইনিংসের ৩৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে লং অনে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন মুশফিক এটি চলতি বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় ও সবমিলিয়ে ৩৫তম ওয়ানডে ফিফটি।

জাদরানের করা ইনিংসের ৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে তুলে মারতে গিয়ে নবীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক। অল্পের জন্য টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি মিস করা মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ৮৭ বলে ৮৩ রান। ১ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে সাজানো এই ইনিংস। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৮ রানের ইনিংস এসেছিল তার ব্যাট থেকে। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন সেঞ্চুরি।

মুশফিক বিদায় নিলেও ইনিংসের একদম শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ৩৫ রানের ইনিংস উপহার দেন মোসাদ্দেক। ৪টি বাউন্ডারিতে সাজানো এই ইনিংস।

বল হাতে আফগান স্পিনার মুজিব ৩টি, নাঈব ২টি এবং জাদরান ও নবী ১টি করে উইকেট পেয়েছেন।

এই ম্যাচে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে ১ হাজার রানের মাইলফলক গড়েছেন সাকিব। ২০১৯ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন সাকিব। অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারকে (৪৭৬ রান) পেছেনে ফেলে শীর্ষ রান সংগ্রাহকের তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...