রামগড়ে বর্ষায় ভূমি ধসের আশঙ্কা

0

পরিবেশ আইনে পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও রামগড়ে পাহাড় ও টপসয়েল কেটে পাচার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বর্ষায় ভূমিধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইসরাত জয়নিউজকে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালাচ্ছি।

উপজেলার ছিনচুরি পাড়ায় অভিযান চালিয়ে একটি এক্সেভেটর জব্দ করা হয়। পাতাছড়া ইউনিয়ন কার্যালয় সংলগ্ন টিলা কাটার সময় এক নারীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

এদিকে, স্থানীয় মো. ফারুকুর রহমান, মো. নজরুল, ইসমাইল মিয়া ও ইউনুছ অভিযোগ করে বলেন, আবুল কালাম ও হেলাল উদ্দিন গং পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন একটি টিলা কেটে সাবাড় করে ফেলেছে।

পাহাড় কাটার ফলে নাকাপা এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কালাডেবা গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, স্কুলটিলা ও সোনাইআগা এলাকার টিলা ও জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছে একটি চক্র।

রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আলী ফিরোজ জয়নিউজকে বলেন, টপসয়েল কেটে নেওয়ায় কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এতে জমির স্বাভাবিক উৎপাদন মারাত্বকভাবে ব্যাহত হয়।

এদিকে, রামগড় শ্মশান টিলার পাহাড়টি অপরিকল্পিতভাবে কাটায় এটি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর বসতভিটা, ফলদ ও বনজ গাছ হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় মো. এনামুল হক, কেখাই মারমা কারবারী, হৃদয় মারমা, রতন দে, শান্তি রঞ্জন ত্রিপুরা, নুরুল ইসলাম, কেজইলা মারমা ও পুতুল ত্রিপুরাসহ আরও অনেকে উদ্বেগ জানিয়ে জয়নিউজকে বলেন, মাটি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে জরুরিভাবে আইনি ব্যবস্থা না নিলে পাহাড়ের বাকি অংশটুকুও তারা কেটে ফেলবে।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও উম্মে ইসরাত জয়নিউজকে বলেন, শ্মশান টিলায় মাটি কাটার বিষয়ে জানা নেয়, খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা বলেন, বর্ষায় এখানে বড় ধরনের ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মো. হান্নান বলেন, প্রশাসনের অগোচরে দুষ্টু লোকেরা অনেক সময় পাহাড় কেটে মাটি নিয়ে যায়। এব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জয়নিউজ/শ্যামল/বিআর
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...