লাঞ্চ করতেই ইসি কর্তার আড়াই ঘণ্টা!

নগরের বাকলিয়া এলাকার গৃহিণী শাহীনুর আক্তার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এসেছিলেন ভোটার আইডি কার্ডের জন্য। বাসায় রেখে এসেছিলেন ছোট দুই সন্তান।

- Advertisement -

দুপুর ১টা থেকে ভোটার আইডির স্লিপ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে। নিচতলার ওই কাঁচঘেরা কক্ষের সামনে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো কর্মকর্তার দেখা পাননি শাহীনুর। একপর্যায়ে কক্ষের বাইরে উপস্থিত এক কর্মচারীর কাছে জানতে পারেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাঞ্চে গেছেন। পরে বিরক্ত হয়ে বাসায় ফিরে যান তিনি।

- Advertisement -
google news follower

বায়েজিদ এলাকার আল-আমিন দ্বিতীয়দিনের মতো এসেছিলেন ভোটার আইডির জন্য। কিন্তু তিনিও দুই থেকে আড়াই ঘন্টা অপেক্ষা করার পর বিরক্ত হয়ে ফিরে যান বাসায়। তাকেও দেওয়া হয় একই তথ্য, ‘স্যার, লাঞ্চে গেছেন!’

লাঞ্চ করতেই ইসি কর্তার আড়াই ঘণ্টা!

- Advertisement -
islamibank

তবে শুধু শাহীনুর বা আল আমিনই নন। রোববার (৪ জুলাই) তাদের মতো প্রায় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষা করে খালি হাতেই বাড়ি ফেরেন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশনে যেকোনো কাজে গেলে যোগাযোগ করতে হয় নিচতলায় থাকা তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে। কোন প্রয়োজনে কার কাছে যেতে হবে তা তথ্য ও সেবা কেন্দ্র থেকেই জেনে নিতে হয়।

এদিন (রোববার) সরেজমিনে চট্টগ্রাম ইসি কার্যালয়ের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তথ্য কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা ডেস্কে এসে আবার একটু পরেই চলে যান। সেখানে অপেক্ষারতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরের খাওয়ার কথা বলে ১টায় বেরিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ফেরেননি দায়িত্বরত কর্মকর্তা।

আগ্রাবাদ বেপারীপাড়া থেকে আসা প্রদীপ কুমার জয়নিউজকে বলেন, আমরা এখানে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছি। এরমধ্যে অনেকেই বিরক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আমি চাকরির প্রয়োজনে ঢাকায় থাকি। তাই বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করছি। দুপুরের খাবার খেতেই যদি কয়েক ঘণ্টা লাগে, তাহলে বুঝে দেখেন তারা কেমন সেবা দিচ্ছে!

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জয়নিউজকে বলেন, আমাদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে সবসময় দুজন কর্মকর্তা থাকেন। কিন্তু আজ একজন ছুটিতে আছেন। তবে ছুটিতে থাকা কর্মকর্তার পরিবর্তে আরেকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

লাঞ্চের জন্য আড়াই ঘণ্টার বিরতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুপুরের খাবার খেতে এত সময় লাগার কথা না। ওনাদের এতক্ষণ কেন লেগেছে সে বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

জয়নিউজ/এমজেএইচ
KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ