সানি হত্যার নেপথ্যে কী?

0

নগরে ছুরিকাঘাতে জাকির হোসেন সানি (১৮) নামে এক স্কুলছাত্রের খুনের নেপথ্যে বেসরকারি ওমরগণি এমইএস কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বিরোধের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের পরিবার বলছে, প্রেমসংক্রান্ত কারণে তাকে খুন করা হয়েছে। তবে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, সানি ওমরগণি এমইএস কলেজের ছাত্র না। সে ঢাকার মিরপুরের একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র।

সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে নগরের খুলশী থানার জাকির হোসেন সড়কে ওমরগণি এমইএস কলেজের ফটকের অদূরে ইক্যুইটি ভবনের সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার সানি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সানি সবার ছোট। তারা ঢাকার মিরপুরে থাকেন।

সানির পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সানির পুরো পরিবার চট্টগ্রামে তার বড় বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। সোমবার রাতে তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। চট্টগ্রামে পড়ালেখা করার সময় এমইএস কলেজের আশপাশের এলাকায় সানির বেশ কয়েকজন বন্ধু ছিল। ঢাকায় ফেরার আগে সোমবার দুপুরে তাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল সানি।

খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে সানির মৃত্যুর খবর শুনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছুটে যান ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। তারা নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি ওয়াসিম উদ্দিনের অনুসারী। তাদের দাবি, সানি তাদের গ্রুপের কর্মী ছিল।

জানা যায়, ওমরগণি এমইএস কলেজে ছাত্রলীগের দুইটি গ্রুপ রয়েছে। এক গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন কলেজ ছাত্রলীগের ভিপি ওয়াসিম উদ্দিন এবং অন্য গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করেন কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু। উভয়গ্রুপ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে চট্টগ্রামে পরিচিত।

আরও পড়ুন: সানি হত্যায় আটক ২

ওয়াসিম গ্রুপের কর্মী জাহিদুল ইসলাম প্রমি জয়নিউজকে বলেন, চট্টগ্রামে পড়ার সময় থেকেই সানি ছাত্রলীগ করত। আমাদের সঙ্গে মিছিল-মিটিংয়ে যেত। আজ (সোমবার) নাসিরাবাদে সাথী কমিউনিটি সেন্টারে আমরা জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভার আয়োজন করেছিলাম। সানিকেও সেখানে যেতে বলেছিল আমাদের কয়েকজন ছোট ভাই।

তিনি বলেন, রোববার (২৫ আগস্ট) এমইএস কলেজের ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারি হয়। সেখানে সানিও ছিল। এর জের ধরে বাচ্চু গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে।

আরশেদুল আলম বাচ্চুর অনুসারী চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর জয়নিউজকে বলেন, যে ছেলেটি খুন হয়েছে তাকে আমি কোনোদিন ছাত্রলীগের কোনো মিছিল-মিটিংয়ে দেখিনি। ব্যক্তিগতভাবে কোনো গ্রুপ করলে সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু সে নগর ছাত্রলীগের কেউ নয়। আর ঘটনাটা কলেজ ক্যাম্পাসে হয়নি। ছেলেটিও এমইএস কলেজে পড়ত না, সে বহিরাগত ছিল। এগুলো একান্তই কিশোর-তরুণদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। এর সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে সানির মা সাজেদা বেগম দাবি করেছেন, প্রেমঘটিত কারণে তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সোমবার বিকাল ৫টায় সানির ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে দুপুর ১২টার দিকে সৌরভ নামে একজনের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সানি।

তিনি আরো বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে খুলশীর এক মেয়ের সম্পর্ক ছিল। এটা নিয়ে জিইসি মোড় এলাকার রবিউল নামে এক ছেলের সঙ্গে সানির বিরোধ ছিল। ৪-৫ দিন আগে রবিউল তাকে প্রবর্তক মোড়ে ডেকে নিয়ে মারধর করে। এই ঘটনার জেরেই তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

এসময় তিনি ঘটনার জন্য রবিউল, তার বোন ও শাফায়েত নামের তিনজনকে দায়ী করেন।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক জয়নিউজকে বলেন, এমইএস কলেজের কাছে সড়কে ছুরিকাঘাতের পর কয়েকজন মিলে তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি থেকে আমাদের খবর দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আমরা তার দুই পায়ে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখেছি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসক আমাদেরকে জানিয়েছেন। সানির পিঠে ও ডান পায়ের উরুতে এবং বাম পায়ের হাটুঁর নিচে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আশা করি, খুব শিগগির আপনাদের সুখবর দিতে পারব।

জয়নিউজ/আরডি/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...