অবশেষে আসছে মেট্রোরেল

অবশেষে নগরবাসীর স্বপ্নের দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। শিগগির চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শুরু হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজধানী ঢাকার পর চট্টগ্রাম হবে মেট্রোরেলের দ্বিতীয় শহর।

- Advertisement -

চট্টগ্রামে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে, সেটি নিশ্চিত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্প্রতি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের মেট্রোরেল বা এমআরটি লাইনের ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করার জন্য। তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মেট্রোরেলের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বলেছি বন্দরনগরীর জন্য অবিলম্বে ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করতে হবে।

- Advertisement -
google news follower

সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে প্রস্তাবিত মেট্রোরেল প্রকল্পে তিনটি এমআরটি লাইন করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ২৬ কিলোমিটার (২০টি স্টেশন), সিটিগেট থেকে নিমতলা হয়ে শাহ আমানত সেতুর গোল চত্বর পর্যন্ত লাইন-২ এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার (১২টি স্টেশন) এবং অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গিবাজার ও পাঁচলাইশ থেকে একেখান পর্যন্ত লাইন-৩ এর দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার (স্টেশন ১৫টি)। তিনটি লাইনের মোট দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ৫৪ কিলোমিটার, স্টেশন থাকবে মোট ৪৭টি। প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ১ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রস্তাবে।

জানতে চাইলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন জয়নিউজকে বলেন, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিভাগীয় শহর, বন্দরনগর ও বাণিজ্যিক রাজধানী। ৬০ বর্গমাইলের এ শহরে প্রতিদিন মানুষ ও যানবাহনের চাপ বাড়ছে। প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এমআরটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধিতা ও মামলার কারণে তা হয়নি। জনবান্ধব গণপরিবহনের জন্য এখন আবার এমআরটির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা চট্টগ্রামের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

- Advertisement -
islamibank

এদিকে নগরে দ্রুত গণপরিবহন ব্যবস্থা মেট্রোরেল চালুর জন্য ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (এমআরটি) প্রাক যোগ্যতা সমীক্ষা (প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি) রিপোর্ট সম্পন্ন হয়েছে। এই রিপোর্টে চট্টগ্রাম শহরে প্রতি ১০ মিনিটে একটি মেট্রোরেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া যথেষ্ট বলে মনে করছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম শহরে সাড়ে ৫৪ কিলোমিটারের তিনটি মেট্রোরেল লাইন স্থাপনের প্রস্তাবনাও দেয়।

জানা গেছে, প্রতি কিলোমিটার মেট্রোরেল লাইন স্থাপনে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। ফলে সাড়ে ৫৪ কিলোমিটারে তিনটি মেট্রোরেল লাইনে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ৮৪ হাজার ২০২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তিনটি লাইনে মোট ৪৭টি স্টেশনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি মেট্রোরেলের সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার এবং গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার। একটি ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটির মাধ্যমে ঘণ্টায় দুই প্রান্তের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী উভয় দিকে পরিবহন করা সম্ভব।

প্রসঙ্গত, প্রায় ছয় মাস আগে মেট্রোরেল চালুর ব্যাপারে মতামত চেয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) পত্র দিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সেসময় চট্টগ্রাম শহরে মেট্রোরেল চালু করা যেতে পারে বলে মতামত দিয়েছিল চসিক। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন শহরে এমআরটি নির্মাণের প্রাক-যোগ্যতা সমীক্ষার জন্য বাসস্থান ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কন্সল্ট্যান্টস লিমিটেড নামের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে ২০ লাখ টাকার ওয়ার্ক অর্ডার দেয় চসিক।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে, তিনটি এমআরটি লাইনের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। এতে সাড়ে ২৬ কিলোমিটারের এমআরটি লাইন-১ (কালুরঘাট-বহদ্দারহাট-চকবাজার-লালখানবাজার-দেওয়ানহাট-পতেঙ্গা-বিমানবন্দর), সাড়ে ১৩ মিলোমিটারের এমআরটি লাইন-২ (সিটিগেট-একে খান বাস স্টপ-নিমতলী বাস স্টপ-সদরঘাট-ফিরিঙ্গিবাজার-শহীদ বশিরউজ্জামান স্কয়ার) এবং সাড়ে ১৪ কিলোমিটারের এমআরটি লাইট-৩ (অক্সিজেন-মুরাদপুর-পাঁচলাইশ-আন্দরকিল্লা-কোতোয়ালী-ফিরিঙ্গিবাজার এবং পাঁচলাইশ-একে খান বাস স্টপ লিঙ্ক)।

লাইন-১ এ ২০টি স্টেশনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো- কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, চান্দগাঁও সিএনবি বাস স্টপ, হাজেরা-তজু ডিগ্রি কলেজ, বহদ্দারহাট, কাপাসগোলা, চকবাজার, জহুর আহমেদ চৌধুরী রোড, লালখান বাজার, দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বারিক বিল্ডিং, নিমতলী, সল্টগোলা ক্রসিং, সিইপিজেড, সিমেন্ট ক্রসিং, স্টিল মিল বাস-স্টপ, পতেঙ্গা, পতেঙ্গা বীচ এবং এয়ারপোর্ট।

লাইন-২ এ ১২টি স্টেশনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো- সিটি গেট, কর্ণেলহাট গেট, একে খান বাস স্টপ, সরাইপাড়া, নয়াবাজার, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, পোর্ট নিউ মার্কেট, নিমতলী, বারিক বিল্ডিং, সদরঘাট, ফিরিঙ্গিবাজার এবং শহীদ বশিরউজ্জামান স্কয়ার।

লাইন-৩ এ ১৫ স্টেশনের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো- অক্সিজেন, হাশেম বাজার রোড, মুরাদপুর, চকবাজার, চন্দনপুরা, আন্দরকিল্লা, কোতোয়ালি, ফিরিঙ্গিবাজার এবং পাঁচলাইশ-একে খান বাস স্টপ লিঙ্কে পাঁচলাইশ, মেডিকেল, জিইসি স্কয়ার, বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট, ফয়ে’স লেক, পাহাড়তলী লিঙ্ক রোড এবং একে খান স্টপ।

প্রতিটি এমআরটি লাইনের জন্য একটি ডিপো স্থাপন করতে হবে। প্রতিটি ডিপোর জন্য প্রায় ৬০ একর জমি প্রয়োজন হবে। ডিপোতে রোলিং স্টকের (রেল-কার) বিরতিকালীন বিশ্রাম, প্রাত্যহিক পরিষ্কারকরণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, অপারেশনাল কন্ট্রোল রুম সেন্টার (ওসিসি), স্টেব্লিং ইয়ার্ড, বহুমুখি ওয়ার্কশপ, পাওয়ার সাব-স্টেশন, ওয়াশিং ইউনিট এবং আনুষঙ্গিক অফিস ও ডর্মিটরি, উদ্ধারকারী ক্রেইন স্টেশন, এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি টেস্ট ট্র্যাক।

জয়নিউজ/রুবেল/এসআই
KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ