খালেদা জেলে, তারেক লন্ডনে: বিএনপির সম্মেলন কবে?

0

দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে। এ অবস্থায় বিএনপির সপ্তম কাউন্সিল নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চিয়তা।

এদিকে দলের গঠনতন্ত্রের ১১ (চ) ধারায় বলা হয়েছে- প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রয়োজনবোধে যে কোনো সময় কমিটির সভা চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে ডাকা যেতে পারে। যে বছর জাতীয় কাউন্সিল হবে, সে বছর ছাড়া প্রতি বছর অন্তত একবার জাতীয় নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত তিনবছরে একবার মাত্র সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর সাড়ে চার মাস পর দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান আর নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদস্য নিয়ে প্রায় ৫৯৪ সদস্যের বিশাল কমিটি করে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার আগে ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এতে ভঙ্গুর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বিএনপিতে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে লন্ডনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া সিনিয়র নেতাদের মধ্যে গ্রুপিং প্রকট আকার ধারণ করছে। ফলে সামনের সম্মেলন এবং মাঠে আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে সফল হতে পারছে না দলটি এমনটি মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন , দলে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। নিষ্ফ্ক্রিয়দের তালিকা করে বাদ দিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের নির্বাহী কমিটিতে জায়গা দেওয়া উচিত। নইলে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন হোঁচট খাবে। দলও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের অনেক সুযোগ থাকলেও বার বার সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে বিএনপি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের বিএনপির বিভিন্ন জেলা কমিটিগুলো গঠন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে সম্মেলনের জন্য। এছাড়া অঙ্গসংগঠনগুলোকেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের একটি অংশ সম্মেলন চান না। এতে করে দলের মধ্যে অন্তঃকোন্দল বাড়বে বলে মনে করেন সেসব নেতারা। অন্যদিকে লন্ডন থেকে তারেক রহমান কি সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন এর উপরই নির্ভর করবে বিএনপির কাউন্সিল হবে কি হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা জয়নিউজকে বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা থাকার পরও বিএনপি আন্দোলন করতে পারছে না। কারণ দেশের অধিকাংশ জেলা ও উপজেলা কমিটি করা যায়নি। অঙ্গসংড়ঠনগুলোতেও একই অবস্থা। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) বাইরে থাকাকালে নিয়মিত অফিস করতেন। দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করতেন। বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতেন। কিন্তু এখন কে সিদ্ধান্ত দিবে?

বিএনপি নেতারা আরো বলেন, সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তারা সবাই কোনো বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে  আসতে পারছেন না। এর ফলে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জয়নিউজকে বলেন, দলের নেতারা বেশি কমিটি করেন। কিন্তু কেউ সংগঠন করেন না। কমিটি মানেই সংগঠন না। আর নেতৃত্বের যেখানে দুর্বলতা দেখা হয়, সেখানে বহুজনের কমিটি হয়। কমিটিতে যখন যুগ্ম আহ্বায়কের সংখ্যা বেশি থাকে তখনই বুঝতে হবে, কেউ কাউকে মানেন না। তার মানে অঙ্গীকারের অভাব। সংগঠনের চেয়ে নিজেকে সবাই বড় মাপের নেতা মনে করেন। দলের উপদেষ্টা-সম্পাদক বেশি, কর্ম সম্পাদকটা একটু কম।

তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিংহভাগ নেতাই নিষ্ফ্ক্রিয়। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকরা কোনো কাজই করছেন না। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিতে হাজিরা দিয়েই অনেকে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। আর বেশিরভাগ নেতাই পদ-পদবি ভাগিয়েই চুপচাপ।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলে এসব নেতার কার্যক্রম সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেত। তাদের চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মধ্যে আনা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন দল পরিচালনা হচ্ছে শুধু গুটিকয়েক নেতার শ্রম, মেধা আর আন্তরিকতার ওপর ভর করে। এভাবে বেশিদূর যাওয়া যায় না। তাই বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভা আয়োজনের দাবি ক্রমশই প্রবল হচ্ছে। দলীয় ফোরামের ভেতরে ও বাইরে এ বিষয়ে কথা বলছেন অনেকে।

জয়নিউজ/পিডি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...