বান্দরবান-চট্টগ্রাম রুটে সরকারি পরিবহন বিআরটিসি সার্ভিস চালুর প্রতিবাদে হঠাৎ পরিবহণ ধর্মঘট শুরু করেছে পূরবী-পূর্বাণী বাস মালিক-শ্রমিকেরা।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নিয়ম না মেনে বিআরটিসি বাস ছাড়ার খোড়া অজুহাতে পূরবী-পূর্বাণী বাস মালিক-শ্রমিকরা অনিদিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট শুরু করে।
আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা ফেরদৌস হায়দার রুশোসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, পূরবী-পূর্বাণী বাস মালিক-শ্রমিকদের দাম্ভিকতা দেখে মনে হচ্ছে সড়কটি সরকারের নয়, সড়কটি পূরবী-পূর্বাণী বাস মালিক-শ্রমিকদের বাপ-দাদাদের। দুই যুগ ধরে বান্দরবানবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে সার্ভিস দুটির মুষ্টিমেয় মালিক-শ্রমিকেরা।
বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে উন্নত পরিবহণ সার্ভিস চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু পূরবী-পূর্বাণী বাস মালিক-শ্রমিকদের অনীহার কারণে পর্যটনের সম্ভাবনাময় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে উন্নত বাস সার্ভিস চালু করা যাচ্ছেনা।
বান্দরবানবাসীর দাবির মুখে পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির প্রচেষ্টায় বান্দরবান-চট্টগ্রাম রুটে ২৭ অক্টোবর থেকে সরকারি পরিবহণ সার্ভিস বিআরটিসি চালু হয়েছে। যাত্রীরা বিআরটিসি বাসে চলাফেলা করায় সার্ভিসটি বন্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে একটি চক্র। বাস ছাড়ার নিয়ম না মানার খোড়া অজুহাতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তবে সাময়িকভাবে ভোগান্তিতে পড়লেও যাত্রীরা পূরবী-পূর্বাণী বাস সার্ভিস অনিদিষ্টকালের জন্য বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে বিআরটিসি সার্ভিসের বান্দরবান জেলার সমন্বয়কারী চিংথোয়াই মারমা জয়নিউজকে বলেন, ত্রুটিজনিত কারণে কিছুটা বিলম্বে বিআরটিসি বাস ছাড়া হয়েছে। এতে যাত্রীদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে যাত্রী কমে যাওয়ায় খোড়া অজুহাতে পূরবী-পূর্বানী বাস মালিক-শ্রমিকরা বাস স্টেশন এলাকায় তাদের গাড়ি আটকে দেয়।
বিষয়টি সমাধানে পরিবহণ শ্রমিক এক্য পরিষদ কার্যালয়ে পরিবহণ নেতাদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। তাৎক্ষনিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এবিষয়ে বান্দরবান ট্রাফিক পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মামুন জয়নিউজকে বলেন, বান্দরবানে পরিবহন নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২৭ অক্টোবর বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে বিআরটিসির এসি বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। কিন্তু যাত্রী কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানবাসীকে জিম্মি করে রাখা পূরবী-পূর্বাণী বাস মালিক-শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। নানা কৌশলে সরকারি পরিবহন সার্ভিস বিআরটিসি বন্ধের প্রচেষ্ঠা চালাচ্ছে।