‘আমি আজ পর্যন্ত কারো কাছে কিছু চাই নাই। আমাকে সম্মান করে অনেকে অনেক কিছু দিয়েছে। অনেক রক্ত, আমাদের ইজ্জত সম্মানের বিনিময়ে এদেশ। ৭১ সালে মানুষ দল বুঝে নাই। তারা চিনত শুধু বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ বুঝতাম আমরা। এই দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যার যার মত করে। যে দেশের জন্য কাজ করে, ত্যাগ করে; তাকেই মানুষ ভালবাসে।’
এভাবেই নিজের কথাগুলো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সামনে একনাগারে বলে যাচ্ছিলেন পাথরঘাটা এলাকার বীরাঙ্গনা শোভা রানী দাশ।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) সকালে পাথরঘাটা এলাকার শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন মেয়র। কয়েকজন অতিথির বক্তব্যের পর মেয়র নাছির মাত্রই বক্তব্য দেওয়ার জন্য গেলেন। তথনই শীতার্তদের মাঝ থেকে উঠে দাড়ালেন মুক্তিযুদ্ধে পাক সেনা ও তাদের দোসর রাজাকারদের হাতে সম্ভ্রম হারানো বীরাঙ্গনা শোভা রাণী দাশ। চেয়ার থেকে দাঁড়িয়েই মেয়রের উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘মেয়র সাহেব আমি কিছু কথা বলতে চাই। যদি আপনি অনুমতি দেন।’
শোভা রাণীর আবদার শুনেই সঙ্গে সঙ্গেই মেয়র নাছির উপস্থাপককে বললেন মাইক্রোফোনটি শোভা রাণীকে দেওয়ার জন্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার দৃষ্টি তখন বীরাঙ্গনা শোভা রানীর দিকে। অবাক দৃষ্টিতে সবাই শুনছিলেন তাঁর কথা।
এসময় বীরাঙ্গনা শোভা রানী নিজের কথাগুলো বলতে গিয়ে করলেন মেয়র নাছিরের কাজের প্রশংসাও। তিনি বললেন, ‘আজকে মেয়র সাহেব এই চট্টগ্রামের জন্য যা করেছেন আমি আর কোনো দেখি নাই। ভালোর ভালোটা আমাদেরকে বলতে হবে। পাথরঘাটার নালা নর্দমা আমরা সবসময় দেখতাম ময়লা আবর্জনায় ভরা। রাস্তাঘাট থাকত সারা বছর ভাঙা। আজকে আপনারা দেখেন পাথরঘাটা এখন অনেক উন্নত। এখানে আমাদের কাউন্সিলর সাহেবের মাধ্যমে মেয়র মহোদয় নালা-নর্দমা, মন্দির মসজিদে অনেক কাজ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে পাথরঘাটায় যা হয়েছে আমার বয়সে আর কখনো তা হতে দেখি নাই।’
একসময় কথা বলতে বলতে শোভা রানী আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।চোখের জল মুছতে মুছতে শোভা রাণী দাশ আগতদের উদ্দেশ্যে বলেন, মেয়র সাহেবের মতো মানুষ আমি কোনোদিন দেখি নাই। ভোট উনাকেই দেয়া উচিত। আমরা সাধারণ মানুষ। আমরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি বুঝি না। আমরা বুঝি সুখ শান্তি আর উন্নতি। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও কাজের মানুষকে আনতে হবে। যদি কাজ চান, এলাকার উন্নতি চান, সাহায্য সহযোগিতা চান, তাহলে তাকেই ভোট দিতে হবে।’
প্রতিউত্তরে মেয়র নাছির বলেন, ‘আপনি যেকোনো সময় আমার সঙ্গে এসে দেখা করবেন। সংকোচ করবেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। ’
পরে এলাকার প্রায় ৫৫০ জন শীতার্ত অসহায়কে কম্বল বিতরণ করা হয়। এ কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পাথরঘাটা ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, সংরক্ষিত কাউন্সিলর লুৎফুন্নেসা দোভাষ বেবী, পাথরঘাটা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক আবু মো. আবসার উদ্দিন, বক্সিরহাট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল্লাহ বাহাদুর, জালাল উদ্দিন ইকবাল, পুলক খাস্তগীর, রফিউল হায়দার রফি প্রমুখ।
জয়নিউজ/পিডি