কক্সবাজারের পেকুয়ায় সরকারি বরাদ্দের ১৫ টন ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। চাল আত্মসাতের ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাদি হয়ে এ মামলাটি করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে মামলাটি করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল আজম।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুল ইসলাম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জয়নিউজকে বলেন, হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য ১৫ টন চাল প্রকল্পের চেয়ারম্যান হিসেবে টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন। ৬ এপ্রিল চালগুলো উত্তোলন করা হলেও তিনি মাস্টাররোলসহ অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেননি। চালগুলো কোথায় আছে সে বিষয়েও কোনো সুরাহা দেননি। যার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
জানা যায়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা থেকে ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই মানবিক সহায়তা হিসেবে ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ২৫ টন চাল বিলি করা হয়েছে।
সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর, রিকশাচালক ও অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য ৩১ মার্চ টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী অনুকূলে ১৫ টন চাল উপ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদাত স্বাক্ষরিত ওই বরাদ্দকৃত চালের কোনো হদিস মেলেনি এখনো। ত্রাণের চাল গায়েবের বিষয়টি তদন্ত করতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুল আফসার পেকুয়ায় আসেন। তদন্তের বিষয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, পেকুয়ায় তদন্তে এসে সরকারিভাবে বরাদ্দের কাগজ বা নথি পর্যালোচনা করেছেন।
টইটং চেয়ারম্যান দুই দফায় চাল উত্তোলন করেছেন। কিন্তু তিনি বিতরণের কোনো তথ্য দেননি বা চালগুলো কি করেছেন সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল আজম জয়নিউজকে বলেন, ১৫ টন ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে পেকুয়ার পিআইও বাদি হয়ে মঙ্গলবার থানায় এজাহার দায়ের করলে সেটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামি চেয়ারম্যান জাহেদকে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।