করোনার জটিল রোগীদের বাঁচাবে প্লাজমা থেরাপি, সচেতনতা ও বরাদ্দ জরুরি

0

চট্টগ্রাম জেলায় প্রতিদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগী। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। মৃত্যুমুখে থাকা সংকটাপন্ন বেশকিছু রোগীকে দেওয়া হচ্ছে প্লাজমা থেরাপি। এতে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন রোগী।

চিকিৎসকরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের নির্দেশনা দিয়েছে। ইবোলো ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এ পদ্ধতি কার্যকর ছিল।

কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় এ ভাইরাস মোকাবেলা করে টিকে থাকতে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির প্লাজমায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য করোনা রোগী প্লাজমা থেরাপিতে সুস্থ হয়ে গেছেন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জন ডা. সামিরুল ইসলাম করোনা আক্রান্ত হন। এরপরেই তাঁর শরীরে প্লাজমা দেওয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রামে শুরু হয় প্লাজমা থেরাপি। পরবর্তীতে ডা. সামিরুল ও ডা. মুহিতকে প্লাজমা দেওয়া হয়। আর তাঁদের প্লাজমাদাতা ছিলেন করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল অরুণ চাকমা।

করোনার চিকিৎসায় চট্টগ্রামে আস্থা অর্জন করেছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। এ হাসপাতালে আটজন সংকটাপন্ন রোগীকে এ পর্যন্ত প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতজনের অবস্থার উন্নতি হয়েছে দ্রুত।

হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবদুর রব মাসুম জয়নিউজকে বলেন, বিশ্বে করোনাভাইরাসের কোনো নিরাময় বের হয়নি। তবে এর মধ্যে আক্রান্তের পর সুস্থ হওয়া রোগীদের থেকে রক্ত নিয়ে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। মোটামুটি সাড়া পাচ্ছি। এ পর্যন্ত আটজন রোগীর শরীরে পরীক্ষমূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়েছে। তাদেরকে প্লাজমা থেরাপি দেওয়ার পর ভেন্টিলেটর খুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে একজন এখনো পর্যন্ত সাধারণ বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে। তবে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া পরও একজন রোগী মারা গেছেন।

এরপরেই মূলত চট্টগ্রামে প্লাজমা থেরাপি দেওয়া শুরু করেন চিকিৎসকরা। আর এমনই এক অস্থির সময়ে অন্ধকার নগরে করোনাজয়ী মানুষগুলোকে এক ছাতার নিচে আনতে মাঠে নামে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। কিন্তু অসচতেনতার কারণে দাতার সংখ্যা বাড়ানো যায়নি।

এ ব্যাপারে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম জয়নিউজকে বলেন, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরা মানুষের তথ্য সংগ্রহ করে রাখছি। তথ্য অনুযায়ী পরে তাদের কাছ থেকে প্লাজমার জন্য রক্ত সংগ্রহ করা হবে। সিএমপি’র প্লাজমা ব্যাংক ডাটাবেইজে বিভিন্ন ব্লাড গ্রুপের মানুষ প্লাজমা ডোনার তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের ধারণা কম থাকার কারণে অনেকে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তবে করোনা থেকে ভালো হওয়া পুলিশ আর ডাক্তাররা রক্ত দিতে বেশ আগ্রহী। তাদের পাশপাশি সাধারণ মানুষও যদি এগিয়ে আসে তাহলে দাতা সংকট কেটে যাবে।

দাতার পাশাপাশি প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগে অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন ডা. আবদুর রব মাসুম।

তিনি জয়নিউজকে বলেন, প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগে এখনো সরকারি বরাদ্দ মেলেনি। দাতার শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ কিট প্রয়োজন হয়। এ ধরনের একটি কিটের দাম ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। সব রোগীর পক্ষে এ খরচ বহন করা সম্ভব নয়। আবার প্লাজমা দেওয়ার দাতাও খুব কম।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ১৬৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯৯ জন, সুস্থ হয়েছেন ২৭৩ জন।

জয়নিউজ/পিডি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...