আক্রান্ত বাড়লেও কম ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ

0

মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের ১০৬তম দিন পার করছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজারের আশপাশে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ এখনও করোনায় অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

এই কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বিবেচনা করার ক্ষেত্রে কতগুলো পরিসংখ্যান বিবেচনায় রেখেছেন তারা। যদিও বাংলাদেশে প্রতিদিন ২০ শতাংশের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং এটা যেকোনো বিবেচনায় উদ্বেগজনক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী একটি দেশে যদি ১০ শতাংশের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়, তাহলে সেই দেশে করোনার ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই বলছে, যদি সামাজিক সংক্রমণ রোধ করতে পারা না যায় তাহলে তা সর্বত্র ছড়িয়ে যেতে পারে। যা ওই দেশটিতে করোনাকে দীর্ঘমেয়াদীভাবে রাখতে পারে।

এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৩০৬ জন। মৃত্যুবরণ করেছে ১ হাজার ৪৬৪ জন। এসব তথ্যের পরেও দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ আশাবাদী। তাঁরা মনে করছেন, বাংলাদেশে এখনো করোনা সংক্রমণে কম ঝুঁকিপূর্ণ। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন-

প্রথমত, মৃত্যু হার কম এবং বাংলাদেশে যেভাবে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, সেভাবে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে না। বরং এখন বাংলাদেশে ১.৫ শতাংশের নিচে মৃত্যুহার রয়েছে, যা ১ লাখের কোটা ছাড়ানো দেশগুলোর তুলনায় সব থেকে কম। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক কম। যখন একটি রোগে মৃত্যুহার কম হবে তখন সেই রোগটিকে কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ করোনার জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, এর কারণ সুস্থতার হার। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে গেছে। অর্থাৎ আক্রান্তের বিবেচনায় প্রায় ৪০ ভাগ এখন সুস্থ। এটাও একটি ইতিবাচক দিক। বাংলাদেশের মানুষ করোনার সঙ্গে বসবাসের কৌশলে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ অসুস্থ হবে, আক্রান্ত হবে এবং সুস্থ হয়ে যাবে। যেমন সাধারণ জ্বর বা সর্দিকাশি হয়, তেমনি এই করোনার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে মানুষ। সুস্থতার হার বিবেচনা করলেও বাংলাদেশ কম ঝুঁকিপূর্ণ।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশে করোনায় মৃদু উপসর্গবাহী রোগীর সংখ্যা বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ রোগীর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। তবে বাংলাদেশে মোট অসুস্থদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল রোগীদের শতকরা হার ৩ শতাংশের বেশি নয় বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গুরুতর অসুস্থ রোগী কম থাকায় বাংলাদেশ করোনার জন্য কম ঝুকিপূর্ণ।

চতুর্থত, বাংলাদেশের তরুণরা বেশি মাত্রায় আক্রান্ত হচ্ছে। তরুণদের এই বেশি আক্রান্তের হারকেও ইতিবাচক দেখা হচ্ছে। কারণ তরুণদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং তারা করোনার সঙ্গে লড়াই করে টিকতে পারে। এই বাস্তবতায় তরুণরা যখন আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চান বিশেষজ্ঞরা। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত প্রবীণ এবং শিশুরা বেশি হারে আক্রান্ত হয়ে না উঠবে ততক্ষণ করোনা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে না।

তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে মৃত্যুহার যেকোনো সময় বেড়ে যাবে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুহার না বাড়বে এবং সুস্থতার হার না কমবে ততক্ষণ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ বাড়লেও সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

জয়নিউজ/এসআই

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...