মাস্টার রহিম ও সুকানি হোসেনের খোঁজে বঙ্গোপসাগরে কোস্টগার্ড

বঙ্গোপসাগরে বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের সময় লাইটারেজ জাহাজ এমভি নিউ লিগ্যাসি’র সঙ্গে চর শ্যামাইলের ধাক্কা লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তলা ফুটো হয়ে যায় চর শ্যামাইলের। কাত হতে শুরু করে ফুটো হয়ে যাওয়া জাহাজ। জীবন বাঁচাতে লাফ দেয় জাহাজের মাস্টার আবদুর রহিম ও সুকানি মোতালেব হোসেন। দুই জাহাজের মাঝখানে সমুদ্রে পড়ে যান তারা।

- Advertisement -

শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্ধান মিলেনি জাহাজের মাস্টার আবদুর রহিম কিংবা সুকানি মোতালেব হোসেনের। তবে ঘটনার পর থেকেই তাদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কোস্টগার্ড।

- Advertisement -
google news follower

চর শ্যামাইলে ১০ জন মাস্টার-সুকানি ছিলেন। রহিম-মোতালেব ছাড়া বাকি আট জন জাহাজের উল্টো দিকে থাকা জেলেদের একটি নৌকায় উঠে প্রাণে রক্ষা পান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সাগরে তলিয়ে যায় চর শ্যামাইল। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কোস্টগার্ড পূর্বজোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম সাইফুল ইসলাম জয়নিউজকে বলেন, লাইটারেজ মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও ডুবে যাওয়া জাহাজটির পাশের লাইটার জাহাজের লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম এখন পর্যন্ত ৮ জন উদ্ধার হয়েছে এবং ২ জন নিখোঁজ আছে। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার সময় এক পাশে কাত হয়ে যায়। কাত হওয়া অংশ দিয়ে দুইজন লাফ দেয়। দুই জাহাজের মাঝামাঝিতে লাফ দেওয়া হয়েছে বলে তারা নিখোঁজ হয়ে যায় বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছি।

- Advertisement -
islamibank

এদিকে বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন জয়নিউজকে বলেন, জাহাজে ১০ জন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন। এর মধ্যে ৮ জন মাছ ধরার নৌকায় উঠতে সক্ষম হন। নিখোঁজ দুই জন জাহাজ যেদিকে কাত হয়েছে সেদিকে লাফ দেয় বলে উদ্ধার হওয়া কয়েকজন জানিয়েছেন। এতে তারা দুই জাহাজের মাঝখানে সমুদ্রে পড়ে যান। বতর্মানে উদ্ধার হওয়া ৮ জন পাঠানটুলী এলাকার হোটেল হলিডেতে অবস্থান করছে। নিখোঁজ জাহাজের মাস্টার আবদুর রহিম ও সুকানি মোতালেব হোসেনকে কোস্টগার্ড উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

লাইটার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশীদ জয়নিউজকে বলেন, একটি মাদার ভেসেলে করে বিএসআরএম গ্রুপ স্ক্র্যাপ আমদানি করে। এগুলো খালাস করতে ভাড়া করা হয় চর শ্যামাইলসহ তিনটি লাইটারেজ জাহাজ। পণ্য খালাসের সময় এমভি নিউ লিগ্যাসি নামে একটি জাহাজের সঙ্গে চর শ্যামাইলের ধাক্কা লাগে। এতে লাইটারেজ জাহাজটির তলা ফুটো হয়ে ডুবতে শুরু করে।

এদিকে দুপুরে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, দুর্ঘটনাস্থলটি চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। তাই জাহাজ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না। অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ ডুবে যাওয়া জাহাজটি উদ্ধারে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

 

জয়নিউজ/অভি/শহীদ

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ