পাহাড় ধসের আতঙ্কে রোহিঙ্গারা

0

উখিয়ায় বন বিভাগের পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা পাহাড় ধসের ভয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। সাম্প্রতিক বর্ষা মৌসুমে অবিরাম বৃষ্টির ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিচু অংশ পানিতে প্লাবিত হয়। পাহাড়ধসে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। কবে কোন সময়ে পাহাড় ধসে জীবনহানি ঘটে এই আতঙ্কে কাটছে তাদের দিন।

কক্সবাজারে রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভারি বৃষ্টিপাত হয়। এ পরিস্থিতিতে টেকনাফ ও উখিয়াতে পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে উদ্বেগে। তবে সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে প্রশাসন। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা এনজিওগুলো এ ব্যাপারে সতর্ক।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ১৩টি ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা অবস্থান করছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অফিসের কর্মকর্তারা জানান, উখিয়া-টেফনাফের দুইপাশে পাহাড় ও বন কেটে বসতি গড়ে তুলেছে রোহিঙ্গারা। এরমধ্যে উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং, হাকিমপাড়া, থাইংখালী, মধুরছড়া ও ঘুমধুম ইউনিয়নের কোনারপাড়া শূন্য রেখা এবং টেকনাফের পুটিবনিয়া, শারবাগান, জাদিমুড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।

থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, ৯ মাস আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে এখানে পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু বর্ষা আসার পর থেকে ভয় কাজ করছে। দিনের চেয়ে রাতে ভয়টা বেশি। ক্যাম্পের ঘরগুলো খুব নড়বড়ে। একটু বাতাসেই ভেঙে পড়তে চায়। কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমের পর আজকের (রোববার) ভারি বর্ষণে এই ক্যাম্পের শতাধিক ঘর ভেঙে গেছে এবং নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে।

উখিয়ার মধুরছড়া পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নিয়েছেন জরিনা বেগম। তিনি বলেন, ভারি বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ঘরে ঢুকে পড়েছে। বসে-শুয়ে কোনোরকমে কাটিয়ে দিচ্ছি রাত।

তবে ভারি বর্ষণে সব রকমের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানকারীদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেসব এনজিও রয়েছে তাদেরকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জয়নিউজকে বলেন, রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এনজিওগুলোও এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...