ব্যতিক্রমী এক প্রকল্প আনছে চসিক

0

নগরকে সুন্দর রাখার পাশাপাশি নগরবাসীর উন্নয়নে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। তবে এবার একেবারে ব্যতিক্রমী একটি প্রকল্প নিয়ে আসছে চসিক। প্রকল্পটির নাম ‘জীববৈচিত্র্য জরিপ ও সংরক্ষণ’।

নতুন এ প্রকল্পের মাধ্যমে জানা যাবে কোন ওয়ার্ডে গাছের সংখ্যা কত কিংবা কত পাখি রয়েছে। আবার তাদের ভারসাম্যই বা কতটুকু। নগরের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব অনুধাবন করেই মূলত প্রকল্পটি নিয়েছে চসিক। পরীক্ষামূলকভাবে ৮নং শুলকবহর ওয়ার্ড থেকে শুরু হবে জরিপ।
আগামীকাল শুক্রবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন নগরপিতা আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে চসিক।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জরিপের পাশাপাশি আবর্জনা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হবে। মশা-মাছির প্রজনন-বংশ বিস্তারসহ রোধে করণীয় বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হবে। শুলকবহর ওয়ার্ড থেকে শুরু হওয়া এ পাইলট প্রকল্প পরবর্তীতে প্রতিটি ওয়ার্ডে চলবে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে চসিক মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, এ ধরনের জরিপ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পাহাড়-বৃক্ষ-পুকুর-প্রাণীর প্রয়োজনীয়তা মানুষ উপলব্ধি করতে পারছে না। জরিপ কার্যক্রমের প্রাপ্ত তথ্যের পরিসংখ্যান থেকে নগরের সমস্যা চিহ্নিত করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে। জীববৈচিত্র্য জরিপ সংরক্ষণ নিয়ে এই পাইলট প্রকল্প দেশের আর কোনো সিটি করপোরেশন নেয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বায়োডাইভার্সিটি রিসার্চ গ্রুপ অব বাংলাদেশ (বিএফজিবি)। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিএফজিবি চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. বদরুল আমিন ভূঁইয়া জানান, প্রকল্পে সহযোগী বিজ্ঞানী হিসাবে কাজ করবেন অধ্যাপক ড. আমিনুদ্দিন মৃধা, অধ্যাপক ড. মোস্তাফা কামাল পাশা, অধ্যাপক ড. মো. কামাল হোসাইন , অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল মিঞা ,অধ্যাপক ড.এম মারুফ হোসেন অধ্যাপক ড. এএমএএম জুনায়েদ সিদ্দিক, অধ্যাপক নোমান আহমেদ সিদ্দিকি, ড. শেখ আবদুল মান্নান, ড . মাহমুদা বেগম ও সন্তোষ মুজমদার। তাদের সহায়তা করবেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিআরজিবি চেয়ারম্যান জানান, মেয়র প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসাবে একটি ওয়ার্ড এবং পর্যায়ক্রমে সমীক্ষার প্রস্তাব দেন। আপাতত শুলকবহর ওয়ার্ডে জরিপের স্থান নির্বাচন, উদ্ভিদকূল পতঙ্গ, স্বাদু পানির শামুক, ঝিনুক, মাছ, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী ও গৃহপালিত প্রাণিসহ অন্যান্য প্রাণিদের উপর তিন মাসজুড়ে জরিপ চালানো হবে।

এদিকে নগরের কলকারখানা এবং রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের ধোঁয়ার সঙ্গে নির্গত কার্বনডাইক্সাইড গ্যাস শোষণের বিষয়টিও এই প্রকল্পের অন্যতম দিক। এছাড়া নিত্য ব্যবহার্য প্লাস্টিক ও পলিথিন সামগ্রী যত্রতত্র ফেলার কারণে শহরের নালা-নর্দমা, খাল-পুকুর এবং জলাভূমি ভরাট হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও থাকবে প্রকল্পে।

শুলকবহর ওয়ার্ড দিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় সংবাদ সম্মেলনে নগরপিতাকে ধন্যবাদ জানান কাউন্সিলর মোরশেদ।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ, নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...