চট্টগ্রাম কারাগার থেকে খুনের আসামি ‘উধাও’

0

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মো. ফরহাদ হোসেন রুবেল (২৮) নামে এক হাজতিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি নগরের সদরঘাট থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার আসামি। শনিবার (৬ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে তাকে খুঁজে পাচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দিনভর কারা অভ্যন্তরে তল্লাশি করেও হদিস না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল ‍সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান কোতোয়ালী থানায় জিডি করেন। জিডি নম্বর-৪১৭।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সদরঘাট থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অর্ন্তবর্তীকালীন হাজতের পরোয়ানা মোতাবেক গত ৯ ফেব্রুয়ারি রুবেলকে কারাগারে পাঠানো হয়। শনিবার সকাল ৬টা থেকে কারা অভ্যন্তরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার সন্ধানে কারা অভ্যন্তরে তল্লাশি চলছে।

জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, একজন হাজতি নিখোঁজের ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ থানায় একটি জিডি করেছে। ওই হাজতি সদরঘাট থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

জিডি’র তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আইয়ূব উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য আমি কারাগারে এসেছি। প্রাথমিকভাবে তথ্য যাচাইবাছাই করছি।

সূত্র জানায়, নিখোঁজ কারাবন্দি মো. ফরহাদ হোসেন রুবেলের হাজতি নম্বর ২৫৪৭/২১। তিনি নরসিংদি জেলার রায়পুরা থানার মীরের কান্দি গ্রামের শুক্কুর আলী ভাণ্ডারীর ছেলে। রুবেল কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৫ নম্বর কর্ণফুলী ভবনের ‘পানিশমেন্ট’ ওয়ার্ডে থাকতেন। সদরঘাট থানার একটি হত্যা মামলায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি কারাগারে যান।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাদারবাড়ি রেলবিট এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ড হয়। রেলবিটের পাশে মাদকের আসর বসেছিল। মাদক সেবনের একপর্যায়ে একজন আরেকজনের চোখে আলো ফেলে। এ নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। তখন ফরহাদ হোসেন রুবেল একজনকে ছুরিকাঘাত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। আমরা অভিযান চালিয়ে রুবেলকে গ্রেফতার করেছিলাম।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান ও জেলার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।

জয়নিউজ/এসআই
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...