পেলেকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি

0

দীর্ঘ ১৮ মাস পর দর্শক ফিরেছে আর্জেন্টিনার মাঠে। সেই ম্যাচেই পরপর তিনবার গোল করেছেন মেসি। অধিনায়কের হ্যাটট্রিকের সুবাদেই বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নিজেদের নবম ম্যাচে বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আলবিসেলেস্তেরা। এখন শুধু বাকি রয়েছে ব্রাজিলের বিপক্ষে স্থগিত থাকা অষ্টম ম্যাচটি।

আর এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পেলের করা ৭৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন মেসি। বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ৭৬ গোল নিয়ে শুরু করা মেসির বর্তমান গোলসংখ্যা ৭৯টি। লাতিন অঞ্চলে মেসির চেয়ে বেশি গোল নেই আর কোনো ফুটবলারের।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোরে নিজেদের ঘরের মাঠ এল মনুমেন্টালে হওয়া ম্যাচটিতে শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন মেসি। প্রথম গোলটি করেন ম্যাচের ১৪ মিনিটে। পরে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ৬৪ ও ৮৮ মিনিটে আরও দুইবার স্কোরশিটে নাম তুলে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন মেসি। যা তার দলকে এনে দিয়েছে ৩-০ গোলের জয়।

এল মনুমেন্টালে প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছিল আর্জেন্টিনা। গোলের জন্য ২৪টি প্রচেষ্টা চালায় তারা। যার মধ্যে সাতটি ছিলো লক্ষ্য বরাবর। তবে গোলের দেখা পেয়েছে শুধুমাত্র মেসির তিনটি শট। যার প্রথমটি ছিলো ম্যাচের ১৪ মিনিটের সময়।

ডি-বক্সের বাইরে লেয়ান্দ্র পারেদেসের কাছ থেকে ছোট করে পাওয়া পাসে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার লুইস হাকিনকে পরাস্ত করে আচমকাই বাম পায়ের শট নেন মেসি। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে তার এই উঁচু শট চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিলো না বলিভিয়া গোলরক্ষকের।

এই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৬৪ মিনিট পর্যন্ত। অবশ্য এর আগে ২৭ মিনিটের সময়েই বল জালে জড়িয়েছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় বাতিল হয় সেই গোল।

পরে ৪০ মিনিটের সময় গোলের সহজতম এক সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। মেসির বাড়িয়ে দেয়া বল পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে বাইরে মেরে বসেন এ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তবে মেসি কোনো ভুল করেননি। প্রায় একই জায়গা থেকে ম্যাচের ৬৪ মিনিটের সময় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ডি-বক্সের ভেতরে সেই লাউতারো মার্টিনেজের বল দেওয়া-নেওয়ার ফাঁকে নিচু শটে দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। এ প্রচেষ্টায় তার প্রথম শটটি প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে। তবে ফিরতি বল থেকে আর ভুল করেননি মেসি। এই গোলের মাধ্যমেই পেলেকে ছাড়িয়ে লাতিন অঞ্চলের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার হয়ে যান তিনি।

মেসি ম্যাজিকের বাকি ছিলো তখনও। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার একটু আগে হোয়াকিন কোররেয়ার জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন বলিভিয়ার গোলরক্ষক। তবে পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ছুটে গিয়ে ফিরতি বলে সহজেই গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক তুলে নেন আর্জেন্টাইন জাদুকর মেসি।

তার হ্যাটট্রিকে পাওয়া জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থান আরও শক্ত হলো আর্জেন্টিনার। লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আট ম্যাচে ৫ জয় ও ৩ ড্রয়ে আর্জেন্টিনার পয়েন্ট এখন ১৮। সবার ওপরে আট ম্যাচে পূর্ণ ২৪ পয়েন্ট পাওয়া ব্রাজিল। বলিভিয়া রয়েছে ৯ নম্বরে।

ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে ছাড়িয়ে যাবেন ব্রাজিলের কিংবদন্তিকে- এমনটাই আশা ছিলো বিশ্বব্যাপী কোটি ভক্তের। কিন্তু রোববার অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে শেষ হয়নি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সুপার ক্লাসিকো ম্যাচ। যে কারণে পেলেকেও ছাড়িয়ে যেতে পারেননি মেসি।

তবে সেদিন না হলেও অপেক্ষা দীর্ঘায়িত করেননি আর্জেন্টাইন জাদুকর। বলিভিয়ার বিপক্ষে নিজেদের পরের ম্যাচেই ছাড়িয়ে গেলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলেকে। তাও কি না দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে। লাতিন আমেরিকান অঞ্চলে এখন মেসিই (৭৯) সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলস্কোরার।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে এল মনুমেন্টালে পরপর তিন গোল করে ক্যারিয়ারের সপ্তম আন্তর্জাতিক ও সবমিলিয়ে ৫৫তম হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন মেসি। সবমিলিয়ে প্রায় ১৯ মাস ও ৮২ ম্যাচ পর হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন মেসি।

তবে সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যায় বেশ পিছিয়েই রয়েছেন মেসি। এ তালিকায় সবার ওপরে মেসির চির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার গোলসংখ্যা ১১১টি। এছাড়া একশর বেশি গোল করা অন্য ফুটবলার হলেন ইরানের আলি দাই।

১৯৫৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত মেয়াদের ক্যারিয়ারে ৯২ ম্যাচ খেলে ৭৭ গোল করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জেতা পেলে। রেকর্ডটি ভাঙতে মেসির লাগলো ১৫৩ ম্যাচ।

জয়নিউজ/পিডি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...