`রিপেনের লাশটি’ কোথা থেকে ভেসে পতেঙ্গার চরপাড়ায় কর্ণফুলী নদীর তীরে এসেছে তা একটি বড় প্রশ্ন। নদীর তীরে পাথরের ফাঁকে আটকানো ছিল তার লাশ। শরীরে ছিল না কোন আঘাত। মরদেহটি ছিল বিবস্ত্র। রিপেন সিংহের সেই ‘বিবস্ত্র’লাশ ভাবাচ্ছে পুলিশকে।
নিহত রিপেন শুক্রবার (১২ অক্টোবর) সকালে নগরের আসকার দিঘীর পশ্চিম পাড়স্থ অফিসার্স লেইনের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। সন্ধ্যায় রিপেনের সন্ধানে তার পিতা ক্ষুধিরাম সিংহ নগরের কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। রাত ৮টায় পতেঙ্গার চরপাড়ায় কর্ণফুলী নদীর তীরে পাথরের ফাঁকে আটকানো অবস্থায় রিপেনের মরদেহ উদ্ধার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ।
পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উৎপল কান্তি বড়ুয়া জয়নিউজকে বলেন, শুক্রবার রাতে খবর পেয়ে আমরা রিপেনের মরদেহ উদ্ধার করি। তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন আমরা পাইনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে হত্যা নাকি আত্মহত্যা। তবে রিপেনের ‘বিবস্ত্র’লাশ আমাদের ভাবাচ্ছে।
রিপেনের পিতা ক্ষুধিরাম সিংহ জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে নাস্তার কথা বলে আমার ছেলে বাসা থেকে বের হয়েছে।
বাসায় ফিরতে একটু দেরি হবে বলেও সে জানিয়েছিল। দুপুরের পরও বাসায় না ফেরায় মোবাইলে কল করি। মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় সন্ধ্যায় কোতোয়ালী থানায় গিয়ে জিডি করি। রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালী থানার ওসি জানান, পতেঙ্গায় একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। পতেঙ্গা থানায় গিয়ে আমরা রিপেনের মরদেহ শনাক্ত করি।
এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে তিনি বলেন, রিপেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুভ চৌধুরী নামে তার এক বন্ধু আছে হাজারী লেইনে। শুভকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সবকিছু পরিষ্কার হবে। রিপেন চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন বলে জানান ক্ষুধিরাম সিংহ।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত এগুচ্ছে। দ্রুত রহস্য উদঘাটন হবে বলে তাদের বিশ্বাস।
জয়নিউজ/জুলফিকার