অর্থনৈতিক সূচকের ৫ ধাপে ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক সূচকের পাঁচটি ধাপে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, সারাবিশ্বে তেলের দাম বেড়েছে। আমাদের দেশের চেয়েও প্রতিবেশী দেশ ভারতে ১৫ টাকা এবং পাকিস্তানে ৩৬ টাকা বেশি মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে।

- Advertisement -

বাংলাদেশ ৯০ ভাগ শতাংশ ভোজ্যতেল আমদানি নির্ভর। আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশেও বেড়েছে। সেখানে কমলে আমরা কমদামে পাবো।

- Advertisement -
google news follower

তাছাড়া আমাদের চাল, গম আমদানি করতে হয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আমাদের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি ভয় দেখাচ্ছে। চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভর্তুকি দিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষকে কম মূল্য পণ্য পৌঁছে দিয়েছেন।

আমরা এখন পর্যন্ত এক কোটি মানুষকে সাশ্রয়ী দামে খাবার দিয়েছি। পণ্যের দাম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

- Advertisement -
islamibank

মঙ্গলবার (৩১মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমদানির ক্ষেত্রে বিকল্প বাজার খোঁজার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তেল আনার ক্ষেত্রে ব্রাজিল, আর্জেন্টনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়ে ছাড়া অন্য কোথাও সারপাস তেল নেই। আমরা যেটা করছি দেশে রাইস ব্র্যাান্ড ওয়েল উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি। বিকল্প উপায়ে তেল উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গত ১৬ মে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ কমিউিনিস্ট পার্টির (সিপিবি) পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর টিপু মুনশি বলেছেন, আমি একটা কথা সব সময় বলে এসেছি, আমার এ পদে (বাণিজ্যমন্ত্রী) লোভ নেই। এক মুহূর্তের জন্য লোভ নেই।

কেউ যদি আমাকে আর্জেন্টনা আর ব্রাজিলে তেলের দামটা কমিয়ে দিতে পারে, মালয়েশিয়া আর ইন্দোনেশিয়ার পাম ওয়েলের দাম কমিয়ে দিতে পারে। সেখানে দাম কমলে তো আমরা কমেই পেতাম।

আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি তারা (সিপিবি) আমার পদত্যাগ চাইছে, পদত্যাগ করব কিনা? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা পদত্যাগ চেয়েছেন তাদের জিজ্ঞেস করো তারা দাম কমাতে পারবে কিনা, কমাতে পারলে মন্ত্রী করবো।

করোনার কারণে দুই বছর পর চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে আজ মঙ্গলবার (৩১ মে) থেকে। বেসরকারি উদ্যোগে দেশের সবচেয়ে বড় এই বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে।

করোনা মহামারির কারণে ২০১৯ সালের মার্চে চট্টগ্রামের এই বাণিজ্য মেলা চলাকালীন মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে ২০২০ ও ২০২১ সালে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।

দ্য চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ২৯ তম বারের মতো বাণিজ্য মেলা আয়োজন করেছে। এতে চেম্বারের সভাপতি ও সিআইটিএফ কমিটির উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

এসময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাংসদ ও প্রাক্তন চেম্বারের সভাপতি এম. এ লতিফ, সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, দ্য ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. জসিম উদ্দীন ও চেম্বারের পরিচালক, সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর এবং চেম্বারের পরিচালক ও জয়নিউজ সম্পাদক অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

পরে অথিতিদের নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন। মেলা উদ্বোধনের পর বাণিজ্যমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

মেলার আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের মেলায় আধুনিক বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে। বাতিঘরের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন বই ও প্রকাশনা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চার লাখ বর্গফুটের আয়তনের মেলায় দেশি-বিদেশি ৩৭০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। স্বাগতিক দেশ বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, থাইল্যান্ড ও ইরান বিভিন্ন স্টলে পণ্য প্রদর্শনেরর সুযোগ পাচ্ছে।

এর মধ্যে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার সম্বলিত ১৭ টি প্যাভিলিয়ন, ৩৩ টি প্রিমিয়ার স্টল, ৯৯ টি গোল্ড স্টল, ৪৮ টি মেগা স্টল,১৪ টি ফুড স্টল, ২ টি আলাদা জোন নিয়ে ৩১০ এর অধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।

মেলা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার এবং সরকারি উচ্চপর্দস্থ কর্মকর্তারা মেলা পরিদর্শন করবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। দর্শনার্থীদের জন্য মেলার প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ টাকা।

তবে নগরীর বিভিন্ন স্কুলের প্লে গ্রুপ থেকে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিকেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শিশুদের বিনোদনের জন্য ৩ হাজার বর্গফুটের বিনোদন কেন্দ্র রাখা হয়েছে। বসার সুবিধাসহ ফোয়ারা সমৃদ্ধ ১২ হাজার ৩২০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি ওপেন প্লাজা রাখা হয়েছে।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে পুরুষদের জন্য উত্তর-পশ্চিম কর্নারে বিশাল জায়গাজুড়ে মসজিদ এবং দক্ষিণ-পূর্ব কর্নারে মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে ১ম, ২য়, তয় স্টল, প্যাভিলিয়ন ও দেশীয় পণ্য উৎপাদনকারী নির্বাচন করে বিশেষ পদক ও সনদপত্র প্রদান করা হবে।

জয়নিউজ/টিটি

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ