হল প্রভোস্টের ঘুষি ড্রাইভারের নাকেমুখে!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে দায়িত্বপালনরত অবস্থায় এক কর্মচারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কর্মচারী জসিম উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের গাড়ি চালক (মাস্টার রোল)।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) অভিযুক্ত শিক্ষক ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দীনকে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছে চবি কর্মচারী সমিতি। এর আগে গত ৩০ নভেম্বর এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর ভুক্তভোগী নিজেই অভিযোগ দায়ের করেন।

- Advertisement -
google news follower

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ড. হেলাল উদ্দীন জয়নিউজকে জানান, দুপুর দুইটায় উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে এর সমাধান করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কেএম নুর আহমদ বলেন, ‘দুই পক্ষকে ডেকে ভিসি স্যার বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন।’

- Advertisement -
islamibank

হল প্রভোস্টের ঘুষি ড্রাইভারের নাকেমুখে!

তবে মীমাংসার কথা অস্বীকার করে কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম শহীদ জয়নিউজকে বলেন, আমরা তো আড়াইটার সময় অভিযোগ দিয়েছি। দুপুর দুইটায় কিভাবে মীমাংসা হয়? তার কাছে কি কোন ডকুমেন্ট আছে? আমরা আমাদের দাবিগুলো লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। তাতে আমরা অটল। দাবি না মানলে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী কর্মচারীর অভিযোগে বলা হয়, ‘গত ২৯ নভেম্বর অফিসের আদেশ ও ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে আনার জন্য প্রথমে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. বেনু কুমারকে গাড়িতে তুলি। এরপর ড. হেলাল উদ্দীনকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। এর মধ্যে গাড়িতে ওঠা অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজিমের কাছে জানতে পারি ড. হেলাল পাঁচলাইশ থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। থানার সামনে থেকে তাকে তুলতে গেলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে করতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার মুখে, কানে, নাকে কিল ঘুষি মারতে থাকেন। এসময় আমার নাক দিয়ে রক্ত ঝড়তে থাকে। এ আহত অবস্থায় ভর্তি পরীক্ষার সময় দায়িত্ববোধের কথা বিবেচনা করে শিক্ষকদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিই।’

অন্যদিকে কর্মচারী সমিতির অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘ড. হেলাল উদ্দীন এক কর্মচারীকে দায়িত্বপালনের সময় ন্যাক্কারজনকভাবে শারীরিক নির্যাতন, অপমান ও অপদস্থ করার ঘটনায় আমরা বিস্মিত ও হতবাক। এ ঘটনায় পরিবহন দপ্তরের ড্রাইভারদের উস্কে দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার বিঘ্নতা সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার গভীর ষড়যন্ত্র বলে আমরা মনে করি। এ অনাকাঙ্খিত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাইভার ও কর্মচারীদের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্ষোভ যেকোন সময় বিরাট আকার ধারণ করতে পারে। ড. হেলালকে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় কর্মচারীদের নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ