প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের মাথাপিছু আয় এক দশকে তিনগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলারে। জিডিপির আকার বেড়েছে।
২০০৬ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ যা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। কোভিড ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যদি না হতো তবে আমাদের দারিদ্র্যের হার আরও ২-৩ ভাগ কমিয়ে আনতে সক্ষম হতাম।
দেশের এই প্রবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বেসরকারি খাতের অবদান। সব পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টায় দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক সম্মেলন ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট-২০২৩’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এফবিসিসিআই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিনদিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রথম সরকার গঠন করে। তখন দেশের কিছু উন্নয়ন করতে সক্ষম হই। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।
এরপর থেকে বিগত ১৪ বছরে বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রততমবর্ধনশীল অর্থনৈতিক দেশগুলোর একটিতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছি।
‘একসময়কার বাংলাদেশ দারিদ্র্যপীড়িত, বন্যা, খরা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ বলে পরিচিতি পেত। এখন সেই অবস্থা নেই। এখন বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। উন্নয়নের রোল মডেল। এটা দাবি করতে পারি যে সবার সহযোগিতায় মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি আকার হবে ১ ট্রিলিয়ন (১০০০০০ কোটি) ডলার। ওই সময়ে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ৫ হাজার ৮৮০ মার্কিন ডলার।
নিজস্ব অর্থায়নের পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ তাদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে পারি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে সেটা প্রমাণ করেছি।
গত বছরের ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ জেলা রাজধানী ঢাকা এবং বাকি অংশের সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত হয়।
বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব না দিলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো সম্ভব নয়। এ জন্য আমি সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছি।
যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, চীন, ভুটান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সাতটি দেশের মন্ত্রী, ১২টি বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ১৭টি দেশের ২০০ টিরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা শীর্ষ এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত আছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা।
জেএন/পিআর