চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দির মৃত্যু/সত্যতা নিরূপণে পিবিআইকে দায়িত্ব

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রাম কারাগারে রুবেল দে (৩৮) নামে এক বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে সিনিয়র জেল সুপার, জেলারসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সত্যতা নিরূপণের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।

- Advertisement -

জরুরি ভিত্তিতে সংস্থাটিকে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশনা এবং একইসঙ্গে আদালত অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ওই সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

- Advertisement -
google news follower

মামলার আবেদন দাখিলের ১২দিন পর আজ রবিবার (৩ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ বেগম জেবুনেনেছা এ আদেশ দেন। কারাগারে মৃত রুবেল দে’র বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের দক্ষিণ জৈষ্ঠ্যপুরা গ্রামে।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের কর্মকর্তা দীপেন দাশগুপ্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালত সরাসরি মামলা গ্রহণের নির্দেশনা দেননি। তবে পিবিআইকে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা তদন্তপূর্বক নিরূপণের আদেশ দিয়েছেন।

- Advertisement -
islamibank

২৭ মার্চ প্রিলিমিনারি এনকোয়ারি রিপোর্ট জরুরি ভিত্তিতে দাখিলের জন্য পিবিআইকে আদেশ দিয়েছেন। এ প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন। তাছাড়া আদালতে অভিযোগকারীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যও ওই সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গত ২৭ জানুয়ারি চোলাই মদ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় রুবেলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় বোয়ালখালী থানা পুলিশ। ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে কারাগার থেকে রুবেলের মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা।

অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালতে জেল সুপার-ওসিসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন রুবেলের স্ত্রী পুরবী পালিত। আদালত আবেদন গ্রহণ করেছেন।

মামলায় আসামিরা হলেন-চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন, জেলার মোহাম্মদ এমরান হোসেন মিঞা, ডেপুটি জেলার নওশাদ মিয়া, মো. আখেরুল ইসলাম, সুমাইয়া খাতুন, ইব্রাহিম, কারাগারের পদ্মা ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার, বোয়ালখালী থানার ওসি মো. আছহাব উদ্দিন, একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) এসএম আবু মুসা, রিজাউল জব্বার, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাঈন উদ্দিন, মো. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল কামাল, আসাদুল্লাহ ও ঘটনার দিন থানার ডিউটি অফিসার। এছাড়া অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ জৈষ্ঠপুরা বেনী মাধবের বাড়ির বাসিন্দা তারা। গত ২৭ জানুয়ারি বিকাল ৩টায় বাড়ি থেকে রুবেলকে স্থানীয় চৌকিদার জয় চক্রবর্তী এবং ইউপি সদস্য চৌধুরী মো. হাসান চৌধুরীর সহযোগিতায় আটক করে পুলিশ।

ওই দিন রাত ৮টার দিকে বিশেষ অভিযানের কথা বলে মদসহ গ্রেফতারের মিথ্যা মামলা সাজানো হয়। রাত ৯টার দিকে পুলিশ ফোন করে রুবেলকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে। টাকা না দিলে ৫০০ লিটার চোলাই মদ দিয়ে মিথ্যা মামলায় আদালতে চালান দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়।

পরিবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে থানায় বসে ২শ লিটার চোলাই মদ উদ্ধারের মিথ্যা মামলার এজাহার সাজানো হয়। সেইসঙ্গে ভুয়া জব্দ তালিকা তৈরি করে এক পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানায় রুবেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন।

পরদিন ২৮ জানুয়ারি বোয়ালখালী থানার এসআই রিযাউল জব্বার শারীরিক আঘাতের কথা গোপন রেখে রুবেলকে আদালতে সোপর্দ করেন। পরে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২ ফেব্রুয়ারি রুবেলকে কারাগারে দেখতে যান স্বজনরা। সেদিন তাকে হুইলচেয়ারে করে স্বজনদের সামনে আনা হয়।

তখন স্বজনরা রুবেলের কপালে, ডান চোখের ভ্রুয়ে জখম, মুখ দিয়ে লালা ঝরছে, নিস্তেজ অবস্থায় মাথা হেলিয়ে পড়ে আছে অবস্থায় দেখতে পান। এমনকি কথা বলার কোনও শক্তি ছিল না তার।

এর কারণ জানতে চাইলে স্বজনদের তাড়িয়ে দিয়ে কারারক্ষীরা রুবেলকে কারাগারে নিয়ে যান। ৪ ফেব্রুয়ারি আইনজীবীর মাধ্যমে রুবেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য আদালতে আবেদন করেন স্বজনরা।

আবেদন গ্রহণ করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়ে আদালতকে জানানোর জন্য জেল সুপারকে নির্দেশ দেন বিচারক। ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রদীপ সূত্রধরের মাধ্যমে পুরবী পালিত জানতে পারেন রুবেল মারা গেছেন। তার লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আছে। সেখানে গিয়ে তারা লাশ দেখতে পান।

জেএন/পিআর

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ